একদিনে সর্বোচ্চ ২৩৯ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত

Share to Social network.
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩৯ জন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন, যা একদিনে সর্বোচ্চ। সবমিলিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১৫৩ জন পুলিশ। আর এ পর্যন্ত ৫ পুলিশ সদস্য করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) পুলিশ সদর দফতর থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ঢাকাসহ সারা দেশে সর্বশেষ ৫ মে পর্যন্ত ১১৫৩ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন । গত রোববার ও সোমবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৮৫৪ ও ৯১৪।

সারা দেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য-উপাত্ত যোগ করে দেখা গেছে, পুলিশে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশনে রয়েছে ৩১৫ জন এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় ১২৫০ জন কর্মকর্তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

সোমবারের (৪ মে) হিসাব অনুযায়ী, শুধু ঢাকা মহানগর পুলিশেই (ডিএমপি) আক্রান্ত ৪৪৯ পুলিশ সদস্য। তবে আক্রান্তদের মধ্যে মাঠ পর্যায়ের সদস্যই বেশি।

ডিএমপি জানায়, করোনায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও তাদের দুজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫ পুলিশ সদস্যের। তাদের মধ্যে চারজন ডিএমপির ও একজন এসবির। তারা হলেন, ডিএমপির কনস্টেবল জসিম উদ্দিন (৪০), এএসআই মো. আব্দুল খালেক (৩৬), ট্রাফিক বিভাগের কনস্টেবল মো. আশেক মাহমুদ (৪৩), পিওএমের এসআই সুলতানুল আরেফিন এবং পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই নাজির উদ্দীন (৫৫)।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির কোয়াটার মাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, করোনা আক্রান্ত, আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইনে থাকা পুলিশ সদস্যদের রুটিন খাবারের বাইরে নিয়মিত ডিম, দুধ, কলা ও অন্যান্য পুষ্টিকর সরবরাহ করছে ডিএমপি। আর যারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন তাদের নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি লেবু, মৌসুমি ফল আনারস ও মাল্টা সরবরাহ করা হচ্ছে। তাদের মেসগুলোতে ২৪ ঘণ্টা গরম পানির ব্যবস্থা রয়েছে। ফোর্সের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সব পুলিশ সদস্যের মাঝে ভিটামিন ‘সি’ জিংক ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, মাঠে নিয়োজিত সদস্যরা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও সুরক্ষিত থাকতে পারেন, সেজন্য সচেতনতার পাশাপাশি সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি জানানো হচ্ছে। সিনিয়র অফিসাররাও বিভিন্ন ইউনিটে গিয়ে তাদের সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলছেন। সুরক্ষা সামগ্রী ও পর্যাপ্ত জীবাণুনাশক সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের মনোবল যেন অটুট থাকে এজন্য ঊর্ধ্বতন অফিসাররা এবং তাদের লাইন চিফরা তাদের হাসপাতালে ভিজিট করছেন। এছাড়া অসুস্থদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ-খবর রাখার জন্য সদরদফতর থেকে স্ব স্ব ইউনিটকে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *