কুমিল্লায় প্রবাসী স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

Share to Social network.
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
কুমিল্লা ব্রাহ্মনপাড়ায় প্রবাসী স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার ওরফে কেয়া (২০)’র রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত ৭ জুন জেলার উপজেলার চান্দলা রামচন্দ্রপুর শ্বশুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সে উপজেলার চান্দলা এলাকার কাইউম ভূইয়ার কন্যা। এ ঘটনায় গত ৯ জুন (মঙ্গলবার) ব্রাহ্মনপাড়ায় থানায় নিহতের মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে ২ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করে ।আসামীরা হলো- উপজেলার চান্দলা রামচন্দপুর এলাকার মো: ফখরুল আলম খানের স্ত্রী জোসনা বেগম (৫০) ও তার  ২য় মেয়ে আকিদা বেগম (৩০)। অভিযুক্তদের  গ্রেফতার পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। নিহতের শ্বশুর বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়- কুমিল্লা ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার চান্দলা গ্রামের কাইউম ভূইয়ার কন্যা কেয়া মনির সাথে চান্দলা রামচন্দ্রপুর এলাকার ফখরুল আলম খানের পুত্র আশ্রাফুল আলমের সাথে ৮/৯  মাস পূর্বে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর জানতে পারে জোসনা বেগম তার ভাইয়ের মেয়েকে তার পুত্রবধু করার ইচ্ছা ছিল। কিন্ত তার স্বামী ফখরুল আলমের অনিচ্ছার কারণে তা হয়নি। জোসনা বেগম ও আকিদা বেগমসহ দুই জনে মিলে সুমাইয়া আক্তার ওরফে কেয়ার উপর আক্রোশ সৃষ্টি হয়। বিয়ের ২ মাস পর কেয়ার স্বামী আশ্রাফুল আলম বিদেশ চলে যায়। স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ার পর জোসনা ও আকিদা বেগম মিলে বিভিণ্ন সময়ে কেয়া উপর অকারণে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া ও ভরন পোষন দিতো না।
গত ৭ জুন (সোমবার) দুপুরে জোসনা বেগম তরকারি রান্না করার বিষয় নিয়ে অকথ্য ভাষায় কেয়া মনিকে  গালিগালাজ করে  এবং তার উপরে শারীরিক অত্যাচার ও নির্যাতন করে এক সময় তাকে  বিষপান করিয়ে  হত্যা করে।  ঘটনাটি যাতে কেউ বুজতে না পারে তার জন্য শ্বশুর বাড়ির লোকজন চান্দলা বাজার থেকে স্থানীয় শ্যামল ডাক্তারকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। শ্যামল ডাক্তার আসার পর দেখে বলে যে, সে বিষপান করেছে। দ্রুত হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ব্রাহ্মনপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করলে তাকে প্রথমে মুন হসপিটালে নিয়ে যায়। মুন হাসপাতালে ডাক্তার রোগীর অবস্থা শোচনীয় দেখে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাত ৮টায় ভর্তি করা হলে সে সোয়া ৮টায় মৃত্যুবরণ করে। তখনই তারা পিতার বাড়িতে খবর দেয়া হয়। পরে তার বাবার বাড়ির লোকজনদেরকে খবর দিলে  ৮ জুন (সোমবার) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে তার ময়নাতদন্ত শেষে বাড়ি নিয়ে আসলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এ বিষয়ে নিহতের খালা পেয়ারা বেগম জানান- বিয়ের সময় বিভিন্ন আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার দিয়ে কেয়া মনিকে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য তাকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করতো। ঘটনার দিন তরকারী নিয়ে কথাকাটা কাটির এক পর্যায়ে তাকে মুখে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয় । কেয়া মনির ২ মাসের সন্তানকেও তার শাশুরী জোসনা বেগম ও তার স্বামীর বোন আকিদা বেগম মিলে নষ্ট করে ফেলে। তিনি আরও বলেন- কেয়া মনিকে প্রায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতো। পরে কেয়া তার বাবার বাড়িতে চলে আসে । ঘরোয়া  বৈঠকের মাধ্যমে তাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় তার শ্বশুর ফকরুল আলম খাঁন। কিন্তু কেয়া মনিকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে পূর্বের ন্যায় শাশুরী জোসনা বেগম ও তার স্বামীর বোন আকিদা বেগম নির্যাতন করতো ।
এ বিষয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে মা রাশেদা বেগম বলেন-আমার মেয়েকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন মানসিক যন্ত্রণা করত এবং প্রায়  সময় যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতো। ।এতে শশুর বাড়ির আশে পাশের লোকজনদের থেকে যানতে পারি আমার মেয়েকে জোসনা বেগম ও আকিদা বেগমসহ দুই জনে মিলে সুমাইয়া আক্তার ওরফে কেয়া মনিকে বিষপান করে হত্যা করিয়েছে। আমার মেয়ের লাশ ব্রাহ্মনপাড়া থানা পুলিশ সুরতহাল রির্পোর্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্ত শেষে নিহতের মামাতো ভাসুর মো:আরিফ লাশ বুঝিয়ে নেয়। আমার মেয়ে মৃতদেহ আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। আমি আমার মেয়ের হত্যার  বিচার আইনের কাছে সঠিক ভাবে চাই ।
এ বিষয়ে নিহতের শ্বশুর বাড়ির লোকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। তারা সকলেই পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্রাহ্মনপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম মাহমুদ জানান, লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *