গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে কেবল ডেক্সামেথাসন: ডব্লিউএইচও

Share to Social network.
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের ট্রায়াল শেষে মঙ্গলবার ঘোষণা করে, সস্তা ও সহজলভ্য কম মাত্রার স্টেরয়েড ডেক্সামেথাসন ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি এক তৃতীয়াংশ এবং অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি এক-পঞ্চমাংশ কমায়, যা মারাত্মক এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় অগ্রগতি।

রয়টার্স জানায়, বুধবার (১৭ জুন) ডব্লিউএইচও-এর প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় অবশেষে গবেষণা ‘আশায় সবুজ অঙ্কুর’ হয়ে এসেছে বলে উল্লেখ করেছেন। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারিতে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ লাখেরও বেশি।

ডেক্সামেথাসন এ রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন বাঁচাতে সক্ষম প্রথম ড্রাগ হিসাবে প্রমাণিত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশ পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধটি মজুত রাখাটা নিশ্চিত করতে শুরু করেছে। তবে মেডিকেল কর্মকর্তারা বলছেন, ওষুধটির কোনো ঘাটতি নেই।

ডব্লিউএইচওর জরুরি কর্মসূচির প্রধান মাইক রায়ান এক ব্রিফিংয়ে জানান, ওষুধটি কেবল সেই সব গুরুতর ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা উচিত যেখানে এটি সাহায্য করতে পারে বলে প্রমাণিত হয়েছে। ওষুধটি মারাত্মক অসুস্থ ও গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত রাখাটা এই ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরাই এই ড্রাগ থেকে পরিষ্কারভাবে উপকৃত হতে পারে।

এর আগে ব্রিটেন রোগীদের চিকিৎসায় ডেক্সামেথাসনের মজুত ২ লাখ ৪০ হাজার ডোজে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।

যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, ডেক্সামেথাসন করোনাভাইরাসের হালকা লক্ষণযুক্ত রোগীদের সাহায্য করে না। যাদের শ্বাস নিতে সমস্যা হয় না তাদের এ ওষুধ দরকার নেই।

তেদ্রোস মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা কোভিড-১৯ রোগীদের মৃত্যুর হার হ্রাস করা দেখানো প্রথম চিকিৎসা এটিই।

সংস্থাটি জানায়, কোভিড-১৯ চিকিৎসায় কীভাবে ও কখন ওষুধটি ব্যবহার করা উচিত তা নিয়ে ডব্লিউএইচও -এর ক্লিনিক্যাল নির্দেশনা হালনাগাদ করা হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ডেক্সামেথাসনের ব্যবহার নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সুইজারল্যান্ড আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করার কথা জানিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইআইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশেও ব্যবহৃত ও অত্যন্ত কমদামী একটা ওষুধ, খুবই কম দাম। আমাদের যে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গাইড লাইন আছে সেটাতে যুক্ত করে অন্তত আমাদের যারা বড় বড় চিকিৎসক আছেন তাদের তত্ত্বাবধানে এটা দ্রুত ব্যবহার করা দরকার।

তবে ভয়ও আছে। মৃদু উপসর্গে ব্যবহার কিংবা অতিরিক্ত ডোজে ডেকে আনতে পারে ভয়ানক বিপদ। ইমিউনিটি কমিয়ে দিতে পারে বলেও জানান চিকিৎসকরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আতিকুর রহমান বলেন, ৩টি ক্ষেত্রে-যারা হাসপাতালে ভর্তি থাকবে, যারা ভেন্টিলেটার সাপোর্টে থাকবে, ভর্তি অবস্থায় যারা অক্সিজেন থেরাপি পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দিতে হবে। করোনা ভাইরাসে যারা মাইনর সিম্পটমের রোগী তাদের দেয়া যাবে না। তার ফলে হবে কি আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা সেটা প্রথমেই কমিয়ে দেবে। তখন কিন্তু মৃদু সংক্রমিত রোগী খারাপ হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় জাতীয় নির্দেশিকায় সরাসরি ডেক্সামেথাসনের কথা উল্লেখ নেই। তবে উল্লেখ আছে স্টেরয়েড ব্যবহারের কথা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নানা রোগে সংকটাপন্ন রোগীদের ওপর প্রয়োগের দীর্ঘ ইতিহাস থাকায় করোনা সংকটাপন্নদের ওপর ব্যবহারেও কোন বাধা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *