Share to Social network.
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
বরিশাল জেলার মুলাদীতে স্বামীর সংসার থেকে বিয়ের প্রলাভন দেখিয়ে ভাগিয়ে এনে প্রতারনার স্বীকার হয়েছেন মোসাম্মৎ কাজল আক্তার নামে এক নারী।
ঘটনাসূত্রে জানাযায়- প্রবাসী স্বামীর সংসারে দুটি সন্তান নিয়ে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাচ্ছিলেন কাজল আক্তার। স্বামী প্রবাসী, সেই সুযোগে পুরনো প্রেমের সুবাদে নানা কৌশলে কাজলের সাথে পুরনো প্রেমের সম্পর্ক পুনরায় শুরু করে একই এলাকার জাফর ইকবাল। ভ‚ক্তভোগী কাজল জানান- জাফর আমাকে ঢাকায় নিয়ে রাখে এবং একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। আমার বেতনের টাকা থেকে থাকা-খাওয়ার টাকা বাদে বাকী টাকা নিয়ে যেত জাফর। জাফর নিয়মিত আমাকে আবেগ আফ্লুত করলে, সহজ মনে তার সকল আবদার মেনে নেই। জফর তার লেখাপড়ার ফাকে ঢাকায় এসে আমার সাথে স্বামী-স্ত্রীর মত সংসার করত। আমার ২ সন্তানকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিবে বলেও ওয়াদা করে জাফর। আমি প্রতিনিয়ত আমাকে বিয়ের জন্য জাফরকে চাপ দিয়ে পড়ালেখা শেষ হয়নিসহ নানা অজুহাত দিয়ে আমার সাথে প্রতারনা করে এসেছে। এছাড়া অসংখ্যবার আমাকে বিয়ে করার তারিখ দিয়ে তা ভঙ্গ করেছে। আমি মান-সম্মানের ভয়ে দীর্ঘ বছরেও কাউকে কিছু বলিনি। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে আপোষ-মিমাংসায় বসে এতে আমাদের উভয়কেই দোষী হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাফরকে নামে মাত্র অর্থ জরিমানা করে বিষয়টি সুরাহা করে। ৩০-০৬-২০২০ ইং তারিখে মিমাংসা নামে অবিচার হলে শালিসদের ওপর ভরসা করতে না পেরে আমি ০৪-০৬-২০২০ ইং ঢাকায় চলে আসি।
আমি ঢাকায় বসবাস শুরু করলে জাফর ইকবাল বর্তমানে পুনরায় আমার সাথে নানাবিধ ছল-ছাতুরী করে আসছে। আবারও সেই পুরনো ঘটনার মত আমার সাথে সংসার করার প্রলোভন দেখিয়ে আসছে। পূর্বের সম্মানহানী রোধে এবং জাফরের অভিনব প্রতারনার ফাদে পা দিয়ে ১০-০৯-২০২০ ইং আমাদের কোর্ট ম্যারেজ সম্পন্ন হয়। পূর্বের সব ভ‚লে আমরা নতুন সংসার শুরু করি। কিন্তু অজানা কারনে ১৪-০৯-২২০ ইং তারিখ আমার নামে ঢাকা জজ কোর্টে একটি মামলা দায়ের করে জাফর। এতে স্বামী-স্ত্রীর বিষয়টি অস্বীকার করে জোড়পূর্বক কোর্ট ম্যারেজ এর অভিযোগ আনা হয়েছে আমার ওপর। আমি আমার পুরো জীবনটা জাফরের জন্য নষ্ট করে দিয়েছি। আমার চাকুরীর বেতনের টাকাও তাকে দিয়েছি। সম্মানহানীসহ নানা অপবাদ মুখ বুজে সহ্য করেছি। তবুও জাফরের প্রতি আমার কিছু চাওয়ার নেই। সন্তানের কথা চিন্তা করে হলেও আমি এখন তার সাথে সংসার চালিয়ে যেতে চাই, আমি বিশ^াস করি – জাফর তার পরিবারের চাপে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাটি করেছে। আমি যদি আমার সংসার ফিরে না পাই, তবে সব হারিয়ে আমার জীবন এখন মুল্যহীন হয়ে পড়বে। এমতাবস্থায় বর্তমানে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার আর কোন উপায় থাকবে না। এর জন্য দায়ী থাকবে জাফর ও তার পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকার সাভারে বসবাসকারী বাসার মালিক আনোয়ারা জানান- কাজল ৭ বছর ধরে এখানে ভাড়া থেকেছে। জাফর ইকবাল যে তার স্ত্রী আমরা সেই হিসেবেই ভাড়া দিয়েছিলাম। জাফর প্রায়ই বাড়ীতে এসে স্বামী-স্ত্রীর মত বসবাস করত। বাড়ীর একাধিক ভাড়াটিয়া জানান- আমরা কাজল-জাফর ভাইকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই চিনি ও জানি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাফর ইকবাল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহ্রত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং তার বসবাসরত এলাকায় খোজ করিলে তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে প্রশাসনসহ সংশ্øিষ্ট সকলের কাছে ন্যায়-বিচারের দাবী জানিয়েছে ভ‚ক্তভোগী কাজল।