ট্রেড ইউনিয়ন বন্ধের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় নাকচ- বিদ্যুৎ আইনে নাশকতার জন্য কঠোর শাস্তি

0
66

ডেক্স রিপোর্টঃ-নাশকতার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র, উপকেন্দ্র বা এ ধরনের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করার দায়ে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রেখে বিদ্যুৎ আইন নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। ওই আইনে ট্রেড ইউনিয়ন নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব থাকলেও তা বাদ রেখেই মন্ত্রিসভা আইনটি অনুমোদন করে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন করে জেল-জরিমানার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে এবং পুরোনো শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে বিদ্যুৎ আইন, ২০১৬ খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
আইনের খসড়ায় বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা উপকেন্দ্র ছাড়াও খুঁটি ও যন্ত্রপাতির মতো বিদ্যুৎ স্থাপনা ধ্বংস করলে, নাশকতা বা অনিষ্ট সাধন করলে সসর্বোচ্চ ১০ বছর ও সর্বনিম্ন ৭ বছরের কারাদণ্ড হবে। একই সঙ্গে ১০ কোটি টাকা জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, এ আইনের আওতায় বিদ্যুতের চুরি শনাক্ত ও রোধে এবং বিদ্যুতের অপব্যবহার প্রতিরোধে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার সমন্বয়ে বিদ্যুৎ গোয়েন্দা সেল গঠন করা হবে।
আইনের খসড়ায় ট্রেড ইউনিয়ন নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকদের জন্য। বিদ্যুৎ বিভাগে যেহেতু এখন শ্রমিক নেই, সবাই কর্মচারী; সেহেতু সেখানে ট্রেড ইউনিয়ন থাকা উচিত নয়। ইউনিয়ন থাকায় বিভিন্ন কাজকর্মে জোরজবরদস্তি হয় এবং শৃঙ্খলা নষ্ট করার মতো ঘটনা ঘটে।
বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক ট্রেড ইউনিয়ন নিষিদ্ধ করা ঠিক হবে না বলে মত দেন। শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সময়ে ট্রেড ইউনিয়ন নিষিদ্ধ করলে তার বাজে প্রভাব পড়বে। কেন এটা বন্ধ করা হয়েছে, সেটি না বুঝে দেশে-বিদেশে নানা রকম সমালোচনা হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, বিদ্যুতে ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিই সরকার-সমর্থক। অতএব, এগুলো বন্ধ করার যুক্তি নেই। পরে প্রধানমন্ত্রী ট্রেড ইউনিয়ন নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব বাদ রেখে আইনটির খসড়া অনুমোদনের নির্দেশ দেন।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিপর্যায়ে বিদ্যুৎ চুরি বা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ-সংযোগ নিয়ে ব্যবহার করলে অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড বা চুরি করা বিদ্যুতের মূল্যের দ্বিগুণ জরিমানা বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হবে। আর শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই দণ্ড অনধিক পাঁচ বছর এবং চুরি করা মূল্যের দ্বিগুণ জরিমানা বা এক লাখ টাকা জরিমানা।
পুরোনো আইনে বিদ্যুৎ লাইন চুরির জন্য পাঁচ বছরের জেল ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল। তা বাড়িয়ে দুই থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া অবৈধভাবে নিজের মিটার থেকে অন্য কাউকে বিদ্যুৎ-সংযোগ দিলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। বিদ্যুতের অনুচিত ব্যবহারের জন্য অনধিক তিন বছর জেল অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে নতুন আইন পাস হলে।
প্রস্তাবিত এই আইনের আওতায় সমন্বয়ের ভিত্তিতে দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা পরিচালনা করতে ইনডিপেনডেন্ট সিস্টেম অপারেটর (আইএসও) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান করা হবে। সারা দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা এই অপারেটরের অধীন নিয়ে আসা হবে। এ অপারেটর বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রবাহ তদারকি, শিডিউলিং ও লোড সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করবে।
পরে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, খসড়া আইনে বিদ্যুৎসংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পরিদর্শনের জন্য দায়দায়িত্ব দিতে ‘প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শক’ পদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের পরিদর্শকের অধীন অন্যান্য কর্মচারীর পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনিকভাবে যে পাওয়ার সেল গঠন করা হয়েছে, সেটিকে নতুন এ আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, লাইসেন্সের সংজ্ঞায় সেকশন-২-এর সাব-সেকশন ১৮ সংযোজন করা হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ ও সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন লাইসেন্স প্রদান করবে।
আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভূমির সঙ্গে সংযুক্ত (আর্থিং) করতে পারবে না।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ১৯১০ সালে বিদ্যুৎ যে অবস্থায় ছিল, ২০১৬ সালে এসে সেই অবস্থায় নেই। মূল আইনকে ভিত্তি ধরেই এ আইন করা হয়েছে। আগের আইনের কলেবর বাড়ানো হয়েছে। কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে, কিছু বিষয় বাদও দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY