পেটের ভেতর ইয়াবা বহনকারীকে পুলিশে সোপর্দ

0
34

পেটের ভেতর চার হাজার ইয়াবা বড়িসহ আটক ইমাম হোসেনের (৩০) বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দায়ের করা এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর আগে গত রোববার দুপুরে তাঁকে আটক করেছিলেন শুল্ক গোয়েন্দা
ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা। তারপর চিকিৎসকের সাহায্য নিয়ে তাঁর পেট থেকে চার হাজার ইয়াবা বড়ির ১০০টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, টেকনাফের ইমাম হোসেন পেশায় দিনমজুর। অন্যের ট্রলারে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে তিনি মাছ ধরেন। মাত্র ১৫ হাজার টাকার জন্য তিনি নিজেই ইয়াবার পোঁটলা বানিয়ে গিলে খেয়েছিলেন। ইয়াবার পোঁটলাগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে এগুলো হজম না হয়। প্রথমে পাতলা পরিষ্কার প্লাস্টিকের আবরণ দিয়ে ৪০টি করে ইয়াবা বড়ির একেকটি পোঁটলা বানানো হয়েছিল। পোঁটলার দ্বিতীয় স্তরে মোটা লাল রঙের স্কচ টেপ ছিল। তৃতীয় স্তরে আবার হালকা ও নরম প্লাস্টিক দিয়ে এটি আটকানো হয়েছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম হোসেন শুল্ক কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, রোববার ভোর পাঁচটার দিকে ইমাম হোসেন ছয়টি সাগরকলার সঙ্গে এগুলো গিলে খান। যাতে বমি না হয়, সে জন্য ওষুধ খেয়েছিলেন তিনি। এভাবে ইয়াবা বড়ির ১০০টি প্যাকেট গিলে খাওয়ার পর তাঁর খাদ্যনালিতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। গলায় ব্যথা নিয়েই সড়কপথে তিনি কক্সবাজার আসেন এবং দুপুরে প্লেনে ওঠেন। এরপর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করা হয়। আটকের পর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিরাপত্তা প্রহরায় ভর্তি করা হয়। সোমবার ভোর পাঁচটা নাগাদ তাঁর পেট থেকে ইয়াবা বড়ির প্যাকেটগুলো বের করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির কারণ সম্পর্কে মইনুল খান বলেন, ১০০ প্যাকেটের মধ্যে একটি প্যাকেট ফেটে গেলেই তিনি মারা যেতে পারতেন। তাই কোনো ঝুঁকি নেওয়া হয়নি।

LEAVE A REPLY