রাজকোষ চুরি: গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্ত আরসিবিসি ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার দেগুইতো

0
22

বাংলাদেশের রাজকোষ চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করার পর জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের জুপিটার রোড শাখার সাবেক ম্যানেজার মায়া সান্তোস দেগুইতোকে। বুধবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে তাকে বারাঙ্গাই পোবলাসিন এলাকায় পাওয়ার প্লান্ট মল থেকে গ্রেপ্তার করে মাকাতি পুলিশ। পাসাই এমটিসি শাখা ৪৫ এর বিচারক এডুয়ার্ডো ক্রুজ সোলাঙ্গোন জুনিয়র তার বিরুদ্ধে শপথ ভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। বলা হয়েছে, তিনি শপথ ভঙ্গ করে নিউ ইয়র্ক ফেডারেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরিতে সহায়তা করেছেন। এ অভিযোগে এ বছরের শুরুর দিক থেকে তিনি রয়েছেন ফিলিপাইনে গোয়েন্দা জালে। ওই অর্থ চুরি নিয়ে বেশ কয়েকবার ফিলিপাইনের সিনেটে শুনানি হয়েছে। চুরিতে জড়িত থাকায় দেগুইতোকে ব্যাংক বরখাস্ত করেছে। বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করার পর রাত ১টা ১৫ মিনিটে ৬ হাজার পেসোর বিনিময়ে তাকে তাকে জামিন দেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে ফিলিপাইনের ইনকুইরার পত্রিকা। এতে বলা হয়, বুধবার দিবাগত রাত ১১টায় দেগুইতোকে জামিন দেন পাসাই মেট্রোপলিটন ট্রায়াল কোর্টের বিচারক রেমিবিয়েল মন্দিয়া। তা সত্ত্বেও তাকে ওই রাত প্রায় পুরোটা কাটাতে হয় মাকাতি পুলিশ সদর দপ্তরে ডিটেনশন সেলে। দেগুইতোকে গ্রেপ্তার করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবী ফার্দিনান্দ তোপাসিও। তিনি বুধবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, এ রাত পর্যন্ত আমরা জানি না এমন একটি মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে যে তদন্ত চলছে সে বিষয়েও আমাদেরকে কখনও জানানো হয় নি। এ বিষয়ে আমরা আইনের সব ধারায় চেষ্টা করবো। যদি দেখা যায় দেগুইতোর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো। আমরা কমিশন অন হিউম্যান রাইটসে যাবো। উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাংক চুরির ঘটনা ঘটে এ বছরের শুরুর দিকে। তাতে বাংলাদেশের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা। এর সঙ্গে মায়া দেগুইতো জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। কারণ, চুরি করা অর্থ পুরোটাই হাতবদল হয়েছে তার অধীনে যে ব্যাংক সেখান থেকে। এ চক্রটির সঙ্গে তার সখ্য নিয়েও অনেক কথা আছে। তাই তাকে বেশ কয়েক বার সিনেট কমিটির সামনে শুনানি অংশ নিতে হয়েছে। তার বিদেশ সফর থামিয়ে দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২০ লাখ পেসোর একটি মানহানী মামলা করেছেন আরসিবিসি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো তান। এতে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশী ওই অর্থ চুরিতে অহেতুক তাকে টেনে এনেছেন দেগুইতো। দেগুইতো অবশ্য বলেছেন, তিনি আরসিবিসি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জোর নির্দেশে ওই অর্থ ছাড় করেছেন।

LEAVE A REPLY