বরগুনায় গলা টিপে গৃহবধূকে হত্যা; স্বামী ও শ্বশুর গ্রেফতার

0
119

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বরগুনার তালতলীর লাউপাড়ার বড় আমখোলা গ্রামের মোসা: মোরশেদা (২৭) নামের গৃহবধূকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রধান আসামী স্বামী মোস্তফা ও শ্বশুর মোতাহার গাজীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে তালতলীর লাউপাড়ার বড় আমখোলা গ্রামের মোতাহার গাজীর ছেলে মো. মোস্তফার সাথে বরগুনার কেওড়াবুনিয়ার জাকিরতবক গ্রামের মোতাহার বিশ্বাসের মেয়ে মোসা: মোরশেদার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সংসার জীবন তাদের এ পর্যন্ত ভালোই কাটছিলো। জীবনের তাগিদে বিবাহের ৩ বছর পরই চাকুরির জন্য স্বামী মোস্তফা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। চাকুরির এক পর্যায়ে একটি মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে ওই মেয়ের সাথে ২য় বিবাহে আবদ্ধ হয় মোস্তফা। পরবর্তীতে এ নিয়ে স্থানীয়দের কাছে জানাজানি হলে প্রথম সংসারে ফাটলের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় স্ত্রী মোরশেদাকে। এ নিয়ে একাধিকবার মোস্তফার বিরুদ্ধে যৌতুক ও নারী শিশু মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিজেকে সংশোধন করবে বলে বাবা ছেলে মিলে মাফ চেয়ে বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলো মোরশেদাকে।

মোরশেদার মামাতো ভাই আবুল কাশেম জানান, মঙ্গলবার বিকালে ও রাতেও বাবা মায়ের সাথে কথা বলেছিলো আমার বোন। আমার বোনের শ্বশুর বাড়ির পাশেই থাকে আমার মামা। সকালেই তার ফোন থেকে শুনি মোরশেদা আর বেঁচে নেই। মৃত গৃহবধূর মেয়ে মাড়িয়া (৭) জানান, রাতে আমার বাবা চট্টগ্রামের নিকাহ করা মহিলার সাথে কথা বলায় এক পর্যায়ে মাকে মারধর শুরু করে গলা টিপে মেরে ফেলেছে। পরে মায়ের পড়নের ওড়না দিয়েই গলায় গিট লাগিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। আমাকে ভয় দেখানোর জন্য আমি কাউকে কিছু বলিনি। এ নিয়ে এলাকায় মানুষের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে তালতলী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজী ফজলুল হক জানান, এ ব্যাপারে হত্যা মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার লাশ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধান আসামী স্বামী মোস্তফা ও শ্বশুর মোতাহার গাজীকে গ্রেপ্তার করে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY