ক্রীড়া সাংবাদিক হতে চাননি রানা হাসান

0
76

ছোট বেলা থেকেই লেখালেখির হাত ছিল। স্কুলে পড়া অবস্থায় লিখতেন ডেইলি অবজারভারের তত্ত্বাবধানে বের হওয়া কিশোর বাংলা পত্রিকায়। পাশাপাশি খেলাধুলার ব্যাপারে ছিলো বিশেষ আগ্রহ ছিল রানা হাসানের। ফুটবল এবং হকির তৃতীয় এবং প্রথম বিভাগে খেলেছেন তিনি।

জাতীয় যুব হকির দলের গোলরক্ষকও ছিলেন বর্তমানে যমুনা টেলিভিশনের স্পোর্টস এডিটরের দায়িত্বে কর্তব্যরত রানা হাসান। তবে খেলোয়াড় বা সাংবাদিক কোনোটাই হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন না তিনি। মনে প্রাণে চাইতেন যেন বড় হয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা হতে পারেন।

যে কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়েও পড়েননি। জনসংযোগ কোর্স ছিলো বলে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায়। তবুও জনসংযোগ কর্মকর্তা হতে পারেননি ২২ বছর ধরে ক্রীড়া সাংবাদিকতা করে আসা রানা হাসান। হয়ে যান ক্রীড়া সাংবাদিক।

অবশ্য ক্রীড়া সাংবাদিকও হতে চাননি তিনি। চেয়েছিলেন কুটনৈতিক বিটে কাজ করতে। কিন্তু পেশাদার জীবনের প্রথম পত্রিকা মানবজমিনে ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবেই কাজ শুরু করেন ১৯৬৫ সালে বগুড়ায় জন্ম নেয়া রানা হাসান। এরপর ক্রীড়া বিভাগে থেকেই কাজ করেছেন যায়যায় দিন, যুগান্তর এবং সমকালে। বর্তমানে যমুনা টিভির ক্রীড়া বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।

সাংবাদিকতা পেশায় আসার ব্যাপারে প্রিয়.কমকে তিনি বলেন, ‘জনসংযোগ কর্মকর্তা হওয়ার ইচ্ছা ছিলো ছোটবেলায়। কিন্তু খুবই রোমাঞ্চিত হয়ে সাংবাদিকতায় চলে আসি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ইংরেজি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু তখন একটা ইচ্ছা ছিলো জনসংযোগে কাজ করার। জনসংযোগ কোর্স শুধু সাংবাদিকতা বিভাগে ছিলো। ওই কারণেই সাংবাদিকতায় লেখাপড়া করেছি।’

ক্রীড়া সাংবাদিকতায় আসার ব্যাপারে ক্রীড়া লেখকদের ঐতিহাসিক সংগঠন ক্রীড়া লেখক সমিতির সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘কামরুজ্জামান ভাই, রুমি ভাইদের দেখে ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ জাগে। উনাদের খুব কাছ থেকে দেখেছি। যদিও স্পোর্টসে আমার কাজ করার ইচ্ছা ছিলো না। আমি কাজ করতে চেয়েছিলাম কুটনৈতিক বিটে। তবে মানবজমিনে স্পোর্টস দিয়ে কাজ শুরু করি।’

সাংবাদিকতায় আসার পেছনে প্রবীণ সাংবাদিক হারুন হাবিবের কথা উল্লেখ করেন রানা হাসান। তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই এই পেশায় আসেন তিনি। এ নিয়ে বলেন, ‘হারুণ হাবিব ভাই (মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর ফোরামের সেক্রেটারি) আমাদের বাসায় থাকতেন। উনি ছিলেন আমাদের পারিবারিক বড় ভাইয়ের মতো। উনি সংবাদিক ছিলেন। উনার কাজের পরিধি অনেক বড় ছিলো। আমরা পত্রিকায় দেখতাম। তো এসব দেখে আমি ভাবতাম যদি সাংবাদিক হতে পারতাম।’

এ বিষয়ে রানা হাসান আরও বলেন, ‘ছোট বেলায় সাংবাদিকতা মাথায় আসে হারুন হাবিব ভাইকে দেখেই। উনাকে দেখেই আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। উনি প্রভাবশালী সাংবাদিক ছিলেন। সরকারের বিরুদ্ধে লিখতেও তিনি দ্বিধা করতেন না। এসব দেখে আমি খুবই প্রভাবিত হই।’

LEAVE A REPLY