সংসদে ‘বাল্যবিয়ে’ বিল পাস

0
46

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি আমলে না নিয়ে জাতীয় সংসদে ‘বাল্য বিবাহ নিরোধ বিল-২০১৭’  বিল পাস করা হয়েছে।

২৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিলটি সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। পরে কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়ে যায়।

এর আগে বিলের ওপর দেওয়া বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদের জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা হলেও কণ্ঠভোটে তা বাতিল হয়ে যায়।

এই আইন পাস হওয়ায় মেয়ে ও ছেলেদের বিয়ের ন‌্যূনতম বয়স আগের মতো ১৮ ও ২১ বছর বহাল থাকলেও ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটে’ কম বয়সেও বিয়ের সুযোগের বৈধতা তৈরি হলো।

সংসদে উত্থাপিত বিলে বিশেষ বিধান সম্পর্কে বলা হয়, ‘এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারীর সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশনাক্রমে এবং মাতা-পিতার সম্মতিক্রমে বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণক্রমে বিবাহ সম্পাদিত হইলে উহা এই আইনের অধীন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে না।’

এখানে সংসদীয় কমিটি ‘কোনো নারীর’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ এবং ‘মাতা-পিতা’র সঙ্গে ‘প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের’ সম্মতির শব্দটি যোগ করেছে।

সংসদীয় কমিটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা যেখানে প্রয়োজন সেখানে অভিভাবকের সম্মতির বিধান যুক্ত করে।

এছাড়া পাস হওয়া বিলে ‘বিশেষ প্রেক্ষাপট’ বিধি দ্বারা নির্ধারিত রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে, যা সংসদে উত্থাপিত খসড়া আইনে উল্লেখ ছিল না।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বিলটি সংসদে ওঠে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। তখন বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

পরীক্ষা শেষে প্রস্তাবিত আইনে, ‘বিশেষ প্রেক্ষাপটে’ বিয়ের বয়সে ছাড়ের বিষয়টি শুধু নারীদের মধ‌্যেই আটকে না রেখে পুরুষকেও এ সুবিধার আওতায় আনার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।

বিলটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দেশের নারী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিলটি পাস না করতে বাংলাদেশের আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিল। তবে সেই আহ্বানের কোনো তোয়াক্কা না করেই সোমবার বিলটি পাস করা হয়।

LEAVE A REPLY