বরিশালের মুলাদীতে শতাধিক প্রতিবন্ধি, পঙ্গু ও বয়স্কভাতার টাকা বিতরনে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

0
809

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলাধীন সফিপুর ইউনিয়নের শতাধিকের বেশী প্রতিবন্ধি, পঙ্গু ও বয়স্কভাতার এক থেকে দেড় বছরের টাকা এককালীন গত ০৬/০৬/২০১৭ইং তারিখে বিতরন করা হয়। কিন্তুু দুঃখজনকভাবে এসব অসহায় ও অধিকার বঞ্চিতদের টাকা স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি সহ টাকা প্রদান ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িৎ কিছু অসৎ লোকজনে মিলে আনুমানিক ৮-১২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে বরিশাল জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে বলা হয় ভূক্তভোগীরা বেশীরভাগই নিরক্ষর, ব্যাংকিং পদ্ধতি, সমাজসেবা অফিসসহ কোন বিষয়েই তাদের অভিজ্ঞতা নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যা বলেন ভূক্তভোগীরা তা ই করেন। তবে কাউকে ৯ হাজারের পরিবর্তে ৩ হাজার, কাউকে ৭ হাজার টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার করে টাকা দিয়েছে, কিন্তুু ভূক্তভোগীদের সবাইকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে সমাজ সেবা কার্য্যালয়ের সফিপুর ইউনিয়নকর্মীর মাধ্যমে বইতে সকলের সাক্ষর একসাথে নিয়ে সকল বই রেখে দেয় মেম্বারগন, পরে নিয়ম বর্হিঃভূতভাবে ব্যাংক থেকে বই একসাথে করে ১ থেকে দেড় বছরের টাকা একসাথে উত্তোলন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই দুর্নীতির বিষয়টি বিভিন্নভাবে ধামাচাঁপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। অভিযোগে বলা হয় ভ’ক্তভোগীরা তাদের প্রাপ্য টাকা চাইলে তাদের সাথে অশালিন আচরন ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে আত্মসাৎকারীরা। ভূক্তভোগীদের মধ্যে হলেন- ১.ইসাহাক মোল্লা, পিতা-মৃত: আফাজদ্দিন মোল্লা, মাতা-আমিরজান, ২. মোঃ আজাহার মোল্লা, পিতা- আফাজদ্দিন মোল্লা, ৩.মোসাঃ সাফিয়া বেগম, স্বামী- কুব্বাত মোল্লা সর্ব সাং বোয়ালিয়া, ইউঃ সফিপুর, উপজেলা-মুলাদী, জেলা- বরিশাল সহ শতাধিক এর বেশী অসহায় ব্যক্তি। অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক-বরিশাল এর সাথে কথা বললে তিনি জানান অভিযোগ পেয়েছি, যারাই জড়িত থাক না কেন বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। এবিষয়ে সোনালী ব্যাংক লিঃ, মুলাদী শাখা এর ব্যবস্থাপকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন- আমি নিজে ৮০ শতাংশ বইয়ের টাকা যারা স্ব-শরীরে উপস্থিত ছিল তাদের দিয়েছি, কিছু বইয়ের লোক অনুপস্থিত ছিল তাই বইগুলো আমার কাছে আছে। এতে কোন প্রকার দুর্নীতি হয়নি বললেও ভুক্তভোগী বইধারীদের সাথে কথা বলে জানতে পারা যায় তারা কেউ স্ব-শরীরে ব্যাংক থেকে কোন টাকা তোলেননি। এবিষয়ে সমাজসেবা কার্য্যালয়, মুলাদী এর সফিপুর ইউনিয়নকর্মীর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি জানান- আমরা শুধু বইয়ের বিষয়টি দেখি, টাকা পয়সার বিষয়টি দেখিনা, এখানে দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই, আপনার কাছে শুনলাম। কিন্তুু এই ইউনিয়নকর্মী নিজেই বইধারীদের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে সকলের বই একসাথে রেখেছেন। এবিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুলাদী এর সাথে কথা বললে তিনি জানান -জেলা প্রশাসক মহোদয় বিষয়টি আমাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যেই জড়িৎ থাকুক না কেন অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুর্নীতির এই বিষয়টি সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ের সচিবকেও অবহিত করা হয়েছে। এসব দুর্নীতির সাথে জরিড়রা তাদের দুর্নীতি ঢাকতে প্রতারিত হওয়া ভূক্তভোগীদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে আর্থিক/সমঝোতার মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান অনেকে। চলবে….

LEAVE A REPLY