‘সিদ্ধান্তটা কঠিন ছিল’

0
24

এত দিন এত গুঞ্জনেও চুপটি করে ছিলেন। অবশেষে মুখ খুললেন নেইমার। বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে তাঁর যাওয়া নিশ্চিত হওয়ার পর  ফেসবুকে, টুইটারে ভিডিও বার্তায় খুলে বললেন তাঁর দলবদলের কারণ, কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন সবাইকে—

একজন খেলোয়াড়ের জীবন চ্যালেঞ্জে ভরা। কিছু চ্যালেঞ্জ অন্যরা আমাদের দেয়, আর কিছু নিউ আমাদের নিজেদের সিদ্ধান্তে। এই চ্যালেঞ্জগুলোই আমাদের ক্যারিয়ারকে আলোকিত করে। ক্যারিয়ারটা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তা শেষ হয়ে যায় খুব তাড়াতাড়ি।

বার্সেলোনা আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জের চেয়েও বেশি কিছু ছিল। এটা ছিল এক বালকের স্বপ্ন, যে ভিডিও গেমে এই (বার্সেলোনার) তারকাদের সঙ্গে খেলত। ২১ বছর বয়সে অনেক চ্যালেঞ্জ সঙ্গে নিয়েই আমি বার্সেলোনায় আসি। ক্লাবে প্রথম দিনটা এখনো মনে আছে আমার। মেসি, ভালদেস, জাভি, ইনিয়েস্তা, পুয়োল, পিকে, বুসকেটসের মতো আরও অনেক তারকার সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে বসা, এমন একটা ক্লাবের জার্সিতে খেলার জন্য অপেক্ষা করা যেটি ‘একটা ক্লাবের চেয়েও বেশি কিছু।’ বার্সেলোনা একটা জাতি। যেটি কাতালুনিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে।

আমার সৌভাগ্য হয়েছে আমার জীবনে দেখা সেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলার। আমি নিশ্চিত, যত দিন বেঁচে আছি, ওর মতো আর কাউকে কখনো দেখতে পাব না—লিও মেসি! মাঠে, মাঠের বাইরে আমার বন্ধু। তোমার সঙ্গে খেলা আমার জন্য অনেক সম্মানের ছিল। মেসি ও সুয়ারেজের সঙ্গে একটা ত্রয়ী গড়ে তুলেছিলাম আমি, যে ত্রয়ী ইতিহাস লিখেছে, একজন খেলোয়াড়ের যা যা জেতার আছে সবই জিতেছে। এমন কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছি, যা আমি কখনো ভুলব না। এমন একটা শহরে ছিলাম, যেটি একটা শহরের চেয়েও বেশি কিছু। আমার নিজের শহরের মতোই। বার্সেলোনা ও কাতালুনিয়াকে আমি ভালোবাসি।

তবে একজন অ্যাথলেটের—যেমন আমার—কিছু চ্যালেঞ্জ থাকতে হয়। আর জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো আমার বাবার মতের বাইরে যাচ্ছি আমি। বাবা, তোমার ভাবনাটা আমি বুঝতে পারি, সম্মান করি। তবে আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সব সময়ের মতো এবারও আমার পাশেই থেকো।

(নেপথ্যে নেইমারের বাবার কণ্ঠ) যাও, ঈশ্বরের নামে যাও, সুখে থাকো। ঠিক আছে? তুমি দৌড়াও, জেনো, আমিও তোমার পাশেই দৌড়াচ্ছি। চুমু নিয়ো।

(নেইমার) বার্সেলোনা ও কাতালুনিয়া সব সময়ই আমার হৃদয়ে থাকবে। তবে আমার নতুন চ্যালেঞ্জ দরকার হয়ে পড়েছিল। নতুন কিছু অর্জনের খোঁজেই আমি পিএসজির প্রস্তাব গ্রহণ করেছি। ক্লাবের সমর্থকেরা যে শিরোপাগুলো জিততে চায়, সেগুলোই এনে দিতে আমি ক্লাবকে সাহায্য করতে চাই। তারা (পিএসজি) আমার ক্যারিয়ার কীভাবে এগোবে, সেটির সাহসী একটা পরিকল্পনা দেখিয়েছে। এই চ্যালেঞ্জটা নিতে আমি তৈরি।

ব্লগ্রানার (বার্সেলোনা) অসাধারণ ভক্তদের ধন্যবাদ। যাদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছি, অসাধারণ সেসব খেলোয়াড়ের কাছ থেকে অনেক শিখেছি, তাদেরও ধন্যবাদ। মন থেকেই টের পাচ্ছিলাম, সময় হয়েছে চলে যাওয়ার। আগামী কয়েক বছর পিএসজিই হবে আমার ঘর। আমার ফুটবল-দক্ষতায় যে ভরসা তাদের, সেটির সম্মান রাখতে কঠোর পরিশ্রম করে যাব। ২০০৯ সাল থেকে যাঁরা আমার পাশে ছিলেন, সবার সাহায্য এখনো থাকবে বলেই আশা করছি। ভক্ত, বন্ধুরা, আমার ও আমার পরিবারের সঙ্গে যাঁরা কাজ করেছেন, এই কয়েক বছরে আমার ক্যারিয়ারের ঝামেলার কারণে যাঁদের ঝামেলা পোহাতে হয়েছে…আজ আপনাদের শান্তির দিন।

সিদ্ধান্তটা অনেক কঠিন ছিল। তবে এই ২৫ বছরে যে পরিপক্বতা এসেছে, সেটির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।

বার্সেলোনা, সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। প্যারিস, আমি আসছি। ঈশ্বর আমাদের সহায় হোন।

LEAVE A REPLY