যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

0
115

যৌন নিপীড়নের অভিযোগের জের ধরে পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন। ছবি: রয়টার্সযৌন নিপীড়নের অভিযোগের জের ধরে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন। যুক্তরাজ্যের কয়েক ডজন এমপির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নমূলক আচরণের অভিযোগ নিয়ে চলমান ডামাডোলের মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করলেন। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আকস্মিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ফ্যালন।

পদত্যাগপত্রে মাইকেল ফ্যালন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর আচরণের যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার বেশির ভাগই মিথ্যা। তবে তাঁর অতীত জীবনে করা একটি আচরণ ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীকে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মানের চেয়ে নিম্নতর বলে মনে করেন তিনি।

২০০২ সালে এক সান্ধ্য ভোজসভায় সাংবাদিক জুলিয়া হার্টলি-ব্রিউয়ারের হাঁটুতে হাত বুলিয়ে ছিলেন মাইকেল ফ্যালন । তখন ওই ঘটনা জানাজানি হলে ফ্যালন ক্ষমা চেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তাঁর এক মুখপাত্র।

তিন বছর ধরে ফ্যালন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চারজন প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিপরিষদে তিনি কাজ করেছেন। বর্তমানে থেরেসা মের নেতৃত্বের একজন গোঁড়া সমর্থক হিসেবে পরিচিত তিনি। ব্রেক্সিটের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) কঠোর বাস্তবায়নের পক্ষে তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভি ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রীসহ নারীদের প্রতি যৌন হেনস্তার গণ-অভিযোগ বিশ্বে তোলপাড় তোলে। এ ঘটনা জানাজানির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারীরা ‘মি টু’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে নিজেদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে শুরু করে।

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির এমপিদের সঙ্গে কাজ করেন—এমন কর্মীরা যৌন নিপীড়নমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ৩৬ জন এমপির একটি তালিকা প্রকাশ করেন। গত দুই দিনে সেই তালিকা আরও দীর্ঘ হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে বিরোধী দল লেবার পার্টির এমপিদের বিরুদ্ধেও।

পদত্যাগের পর মাইকেল ফ্যালন বিবিসিকে বলেন, ১০ থেকে ১৫ বছর আগে যেসব বিষয় বাহবা পেত, এখন সেগুলো চরম আপত্তিকর হিসেবে দেখা হয়। তিনি বলেন, এখন বিষয়টি সম্পর্কে পার্লামেন্টকে ভাবতে হবে।

পার্লামেন্ট বা দলীয় কর্মীদের প্রতি যৌন হয়রানি বন্ধে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ইতিমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সেটিকে স্বাগত জানান ফ্যালন। সব দলের সম্মতিতে আপত্তিকর আচরণ বন্ধে একটি স্বাধীন সংস্থা গড়ে তোলার কথা বলেছেন মে।

ref- prothom alo

LEAVE A REPLY