করুনা করে হলেও ভেবে দেখবেন

0
53

-মজুমদার মোস্তাফিজ মনির
ব্যুরো চীফ, বরিশাল
ঋৃণের দূর্ভাবনা নীয়ে বহুদিন পর্যন্ত জীবন থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। লোকাল বাসে উঠা অনেক পূর্বেই বাদ দিয়েছিলাম, কারণ যদি কোনো পাওনাদারের সাথে সাক্ষাত ঘটে যায় তাহলে বেহাল অবস্থা হয়ে যাবে বলেই নিজেকে অপ্রকাশিত করে রাখা। যে কর্মে আমি কর্মরত তার পরিচয় নাই বা দিলাম, দেয়ার মতো পরিচয় আমার শুধূ নয়, আমার মত অনেকেরই নেই। জীবনকে কালো চাদরে আবৃত করে রেখেছি। বহুদিন থেকে বিশ্বাসের জায়গা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গিয়েছে। অবিশ্বাসের ভেলায় জীবনের অনেকটা সময় ব্যয় করে আজ সমাজ তথা সংসারের কটাক্ষ ও কটুক্তিতে সাঙ্গকরে চেষ্টা করছি একটু ঁেবচে থাকতে। যদি করুনাময় দয়া করে হলেও ঋৃনমুক্ত হওয়ার পথ বাতলে দেয়। মর্জি হয় যদি জীবনের সায়াহ্নে একটু সুখ দিবার। পরম করুনাময়ের কোনোই ত্রুটি নেই বা ছিলনা, বারংবার আর কত বার সুযোগ দেবে আমায় ? উপার্জনের সব পথ রুদ্ধ, বাস্তবতার সব অলি গলি হেঁটে হেঁটে আমি আজ ক্লান্ত এবং পরিশ্রান্ত পকেটে টাকা নেই বলে। হঠাৎ করে উঠে বসলাম লোকাল বাসে, গন্তব্যে যাবো বলে। কি যে ভয়ানক ভীড়! মহিলা ও পুরুষের বালাই নেই, সবই এখন যাত্রী, যেতে হবে গন্তব্যে। বুড়ো এক ভদ্র মহিলাকে দেখে আমার বসার সিটটা ছেড়ে দিলাম, আমার মায়ের কথা মনে পড়ল বলে। কিছু দূর যেতে না যেতেই ছোট্ট একটি মেয়ে বাসে উঠে আমার পাশেই দাঁড়াল, আমার তো কোনো সিট নেই, যেখানে ওকে বসতে দেবো। ওকে দেখে যদিও আমার ছোট মেয়ের কথাই মনে পড়ল, কিন্তু কি আছে করার আমার ? মনে মনে ঘৃনা হলো তাদের উপর, যারা ওকে বসতে দিতে পাড়তো কিন্তু দিলো না। নিজের উপর খুব বিরক্তির ধীক্কার জন্মালো, কোন পরিবেশে আমাদের এই জয়যাত্রা তথা বেঁচে থাকা ? কিছুক্ষন পরে দেখলাম বাস কন্টাক্টর ভাড়ার জন্য তাগিদ দিচ্ছে, অর্ধেক ভাড়ার কোনোই নিয়ম নেই। ছাত্র-ছাত্রীদের কোন ছাঁড় নেই। শূধূ ছাঁড় আছে পুলিশ পাশের। হায়রে দুনিয়া, হায়রে মুক্তিকামী মানুষের সোনার বাংলাদেশ, নিজের প্রতি খুব ঘৃনা হলো। ঘৃনা হলো সভ্য সমাজের গুণী জনের প্রতি। নীজের প্রতি রাগ হলো, এতটা রাগ হলো যে, গাড়ি না থামতেই লাফ দিয়ে নেমে গেলাম গন্তব্যের অনেক আগেই। দয়া করে ভেবে দেখবেন, আমরা যারা জিম্মী ঐসব বাস কর্তৃপক্ষ তথা ড্রাইভার এমনকি কন্টাক্টরের কাছে, সিটিং বলে এ কোন ফিটিংয়ের চিটিংয়ে পরি ? মুক্তি পাবো কি কোনো দিন এই অমানসিক মনোযন্ত্রনা হতে ? করুনা করে হলেও একটু ভেবে দেখবেন কি ? এদেশ তো তোমার আমার মুটি-মজুরের খেটে খাওয়া মানুষের শুধু পুলিশের নয়। আমরাও জয় বাংলার অনুসারী, কারো কোন ক্ষমতা অপব্যাবহারের জন্য যেন জয় বাংলার ভাবমূর্তি নষ্ট না হয়। কন্টাক্টারদের স্বার্থ কোথায় ? ওরা এতটা দূব্যাবহার করে যাত্রীদের প্রতি যা প্রকাশ করার ভাষা আমাদের নেই। আশা করি একটু মার্জিত হই এই পরিসরে।
“আল্লাহ হাফেজ……”

LEAVE A REPLY