বিজয়ের এই মাসে “মাননীয় মানবতার নেত্রী, প্রধান মন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করছি”

0
154

বিজয়ের এই মাসে আমি সাড়া বাংলার ভাগ্যহত সনদবঞ্চিত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে কিছু কথা তথা আর্জ্যি নীয়ে আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করছি। একমাত্র এই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রিয় নেতার উত্তরসূরী হিসাবে স্বাধীন স্বদেশ প্রিয় বাংলার কর্ণধার। আপনার সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ কামনা এবং যারা স্থানীয় উপজেলা, জেলা যাচাই বাছাই কমিটি কর্তৃক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বিবেচীত হয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) পর্যন্ত এসে আপনার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্বীকৃতি পাবার অপেক্ষায়, আশু বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে আপনা সদয় হস্তক্ষেপ একান্তই প্রয়োজন। পৃথিবীর জন্মলগ্ন হতেই করুনাময় তার আদম-হাওয়া দিয়েই রশিকতা শুরু করেছিলেন। পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীকে কি সুচারু রূপে পরিচালিত করেছেন, সত্যি তা বিস্ময়কর! আরও বিস্ময়কর দয়াময় তার অসীম রহমতের ছায়ায় মানবতার মহান নেত্রীকে কত হাজারও প্রতিকূলতা এবং স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রের হাত হতে রক্ষা করেছেন। আমারা আপামর দেশ প্রেমিক জনতা পরম করুনাময়ের দরবারে শত কোটি শোকর এবং সূদীর্ঘ জীবন কামনা করি প্রিয় নেত্রীর জন্য।
পৃথিবীর মানচিত্রে ছোট্ট একটি দেশ ভেসে এসেছিল সমুদ্র অববাহিকায়, সেই আমাদের বাংলাদেশ। ব্রিটিশরা শত্রুছিল, আমার পিতামহের, পকিস্তানিরা শত্রুছিল আমার পিতৃত্বের। আর আমাদের শত্রু হচ্ছে এদেশের স্বাধীনতা বিরোধী সকল দেশদ্রোহীরা। সচেতন হতে হবে আমাদের সবাইকে, যুদ্ধ হবে একবার নয় বারংবার, উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে জীবন বাজি রেখে আগামী প্রজন্মকে দিয়ে যেতে হবে একটি সুন্দর আবাস লাল-সবুজ শোভিত প্রিয় সোনার বাংলাদেশ।
ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ, রবীঠাকুরের কিংবা নজরুল তথা জীবনান্দ কিংবা জসিম উদ্দিনের দেশ, নজরুল, তাজউদ্দিন, শেখ মুজিব, জিয়াউর রহমান এমনকি এরশাদ সাহেব বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্লাটফর্মে দাড়িয়ে নিজেদের গুনোকীর্তন করেছেন। মীর জাফর এদেশেরই, মোস্তাক আমাদের বাইরের নয়, ব্রিটিশ-পাক প্রেতাত্তাদের ষড়যন্ত্র থাকবে আজীবন। এর মাঝেই বেঁচে থাকতে হবে আমাদের। আমরা জনগন, আমরা শুধুই শুনি, কিন্তু ভাবিনা, বলিনা সত্যিকারের ইতিহাস কি? সত্যিকে নীয়ে বড়ই কষ্টে আছি।
কষ্টের কিছু কথা দৈনিক জরুরী সংবাদ পত্রিকার মাধ্যেমে প্রকাশ করার সুযোগ যারা আমাকে করে দিয়েছেন, আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। ৫৮ হাজার বর্গকিলোমিটার ৪৭ বৎসরের কৃত কর্মের ভুল নীজেদের বুকের ভিতর পাজব বন্ধি করে বোবা যন্ত্রনা নিয়ে জাতী উপনীত আজ এক অগ্নি গিরির উপত্যকায়…….
জানি সত্যি কথা নির্মম হলেও স্পর্শ কাতর পরিস্থিতিতেও উঠে দাড়াবে একদিন, প্রকাশিত হবে অজানা অধ্যায়। প্রজন্ম হবে হত-বিহবল, মুক্তির সঠিক ইতিহাস অবারিত করতে হবে প্রজন্মের দিকদর্শনে। প্রজন্মকে করতে হবে আশ্বস্থ। এই হোক বিংশ শতাব্দীর প্রতিশ্রুতি।
সঠিক ইতিহাস, মুক্তির জয়গান, জাতীর পরিত্রান, সব যেন আজ আতঙ্কিত, ৭১-এর সেদিনের মত বিলিয়ে দিতে সংকুচিত সেই স্বাধীন সংগ্রামী জনতা এবং প্রজন্ম।
কারন- শুধু একটাই সঠিক মুল্যায়ন হতে বঞ্চিত তারা। যদি সেদিন সনদের জন্য যুদ্ধে যায়নি তারা, যুদ্ধে যায়নী স্বাবলম্বী হতে বা স্বার্থ বাড়াতে।
সত্যিকারের মুক্তিকামী মানুষ সেদিন যুদ্ধে গিয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশনায় এবং উত্তেজনাকর আহ্বানে জাতীয় মুক্তির লক্ষে পরাধীনতার শৃঙ্খল হতে জাতীকে মুক্ত করতে ঘরে বসে বধুর আঁচলের বন্ধন ছিন্ন করতে বাধ্য হয়েছে।
মা তার সন্তানের হাতে অস্ত্র দিতে বাধ্য হয়েছে পরিস্তিতীতে। মায়ের অশীষ-বাবার আক্ষেপ তথা বোবা যন্ত্রনা সেদিন সন্তানকে করেছিল বিদ্রোহী, জুগিয়েছিলো যুদ্ধে যাওয়ার প্রেরণা।
৩০ লক্ষ মা-বোনের উজ্জতের হাটে-পাক-হায়নাদের সমূচিত শিক্ষা দিয়ে অর্জন করেছে অধিকার, তথা লাল-সবুজের পতাকা, সেদিন সবাই ছিল সৈনিক। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের পরক্ষনে সনদের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল পরাধীনতার স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা, অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল মুক্তিকামী মানুষ। সঠিকভাবে আজও সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা সনদ বা স্বীকুতি হতে বঞ্চিত। সর্বপরি স্বাধীনতা অর্জনের পর নেতার দেশ রক্ষার, কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পূর্বেই ষড়যন্ত্রকারীরা নেতাার অবমূল্যায়ন, অকৃতজ্ঞ ভাবে নেতাকে উপহার দিলো নির্মম বুলেট। রক্তাত্ত করেছিল আঙ্গিনা, সৃষ্টি করেছিল শোকের মাতম। সৃষ্টি হলো কলংকিত ১৫ই আগষ্ট, মুজিব ভক্ত সেদিন হয়েছিল উন্মাদ, শুরু হলো কলংকিত বসবাস, ষড়যন্ত্রকারীদের হাত হয়ে স্বীকৃি তবা সনদ ছিলোনা প্রয়োজন কারো। মুক্তিকামী মানুষের জীবনের প্রতি ঘৃনা জন্মালো, যে জাতী নেতাকে খুন করতে হাত কাঁপেনী, বাধেনী বিবেকের বাঁধা, সে জাতির স্বীকৃতি বা সনদ ছিন্ন ভিন্ন করেছিলো তথা প্রত্যাশাকে দিয়েছিল জলাঞ্জলী। সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা বোবো বুনে গিয়েছিল। অন্ধকারে আবদ্ধ হলো বাংলার সত্যিকারের ইতিহাস……..
প্রতিটি প্রতিভা ধুঁকে ধুঁকে নিষ্পেশীত হচ্ছে। প্রতিভাবান মানুষগুলো না পরছে বলতে, না পারছে সহ্য করতে। তাই হয়তো দমবন্ধ হয়ে পাড়ি জমাচ্ছে পরকালের ভেলায়। উন্মাদ হয়ে পথে পথে বিবেকযুদ্ধে পরাভূত, অসায় অশরীর যোদ্ধারা ছিল নির্জীব। এহকাল কি শুধুই পরীক্ষা কেন্দ্র সাদা এবং এই  সৎ মানুষদের জন্য ?
সব পরীক্ষা কি বিবেকবান মানুষদের ? বিবেকের আদালতে শুধু কি জরিমানা তাদের জন্যই ?
আজ অর্ধশত বছর ছুই ছুই শতাব্দীর স্বাধীনতার স্বাদ পেতে যারা উদগ্রীব, তাদের আত্মার আকুল আবেদন সঠিক স্বাধীনতার সৈনিক নির্ধারনের ব্যার্থতাকে সফলতার প্রেক্ষাপট করার লক্ষ্যে মানবতার মহান নেত্রী প্রধানমন্ত্রী মহোদয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) যে উত্তম পদক্ষেপ নিয়ে আঞ্চলিক যাচাই বাছাই করে উপজেলা তথা জেলা কর্তৃক মনোনিত হয়েছেন, তা যেন বাস্তবায়িত হয় সেই লক্ষ্যে সর্বাত্তক সহযোগিতা নিতে অধীর আগ্রহে সনদ বা স্বীকৃতি পাবার অপেক্ষায় আমরা মুক্তিযোদ্ধার প্রজন্মরা দেশকান্ডারী মানবতার নেত্রী প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সর্বপরি দেয়া হোক সঠিক মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ বা স্বীকৃতি। তাতে পরলোকগত মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মা শান্তি পাবে এবং উপকৃত হবে সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মরা, সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারা যারা বেঁচে আছেন। তারা খুবই মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। জীবন সায়াহ্নে যদি পেত তাদের প্রিয় নেতার তনয়ার হাত হতে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি তাহলে মরেও আমর হত তাদের আত্মা। তাতে হয়তো মহান নেতার আত্মাও শান্তি পাবে মনে হয়। পরিশেষে, মহান মানবতার কান্ডারীর অবগতির জন্য কড়োজোরে মিনতি আমার বাবা আজ নেই, তিনি ছিলেন বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলাধীন, পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের তৎকালীন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি। তার প্রদত্ত প্রত্যয়ন পত্রে মুক্তিযুদ্ধের সনদ পেয়েছেন অনেকেই, কিন্তু তার কোন সনদ ছিলো না।
তার আক্ষেপকে তথা পরলোকগত আত্মার মাগফেরাতের জন্য আমার এই আজ্যি আপনার সদয় বিবেচনা এবং হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমার বাবার জন্যই শুধু নয়, বাবার মত অনেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় তাদের প্রিয় নেতার তনয়ার যুগান্তকারী অবিস্মরনীয় পদক্ষেপ, স্বীকৃতি বা সনদ পাবার জন্য তাদের উদগ্রীবতা তথা মনোবাসনা সফল করুন। আশাকরি সদয় বিবেচনা করিবেন। দীর্ঘজীবি হোক মহান নেত্রী, বাস্তবায়ন হোক চিন্তা ও চেতনা।

নিবেদক
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ বঞ্চিতদের পক্ষে
মজুমদার মোস্তাফিজ মনির
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক (কেন্দ্রীয়)
মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ,
দৈনিক জরুরী সংবাদ
ব্যুরো চীফ বরিশাল।  

LEAVE A REPLY