শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন নয় : আলহাজ্ব মুনছুর আলী

0
119

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সনে প্রায় ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে প্রাথমিক শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সনে ২৬১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে আরেকটি ইতিহাস স্থাপন করেছেন। এতেও তিনি ক্ষান্ত হননি, তিনি ২৬১৯৩টির বাইরে তিন পার্বত্য এলাকার টঘউচ কর্তৃক পরিচালিত আরো ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করন করেন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রাখেন এবং শিক্ষকদের ব্যাপারেও যথেষ্ট আন্তরিক। শিক্ষকদের সবসময় তাঁহার পিতার আদলে সম্মানের চোখেই দেখেন। এখনো শিক্ষকদের অনেক সমস্যা ও দাবী রয়েছে। সে দাবী গুলো আদায়ের লক্ষ্যে আমরা কোন আন্দোলনে বিশ্বাসী নয় বরং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনার মাধ্যমেই সকল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি। ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করেছেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতি উক্ত কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত নয়। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনার মাধ্যমে এই সকল সমস্যা সমাধান করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। এরই মধ্যে আলোচনার কার্যক্রম অনেকখানি অগ্রসরও হয়েছে।
দাবিগুলো নি¤েœ উল্লেখ করা হলো :
১) প্রশিক্ষন বিহীন প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষন প্রাপ্ত প্রাধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নিত করা। ২) প্রশিক্ষন বিহীন সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষন প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১২তম গ্রেডে উন্নিত করা। ৩) সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির কোটা ৬৫% থেকে উন্নিত করে ৮০% করা। ৪) পূর্বের তুলনায় বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পোষ্য কোটা ২০% থেকে উন্নিত করে ৪০% করা। ৫) জাতীয়করণ কৃত সকল প্রধান শিক্ষকদের টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও ক্রসপন্ডিং স্কেলের ব্যবস্থা করা। ৬) জাতীয়করণ যোগ্য বাদ পড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আওতায় আনা।
সভায় মহাসচিব আলহাজ্ব মুনছুর আলী সাহেব বলেন, বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার প্রাথমিক শিক্ষকদেরকে অনেক দিয়েছেন। আমরা প্রধান মন্ত্রীর বিরুদ্ধে না খেয়ে মরার আন্দোলন (অনশন) করবো না। আমাদের দাবী আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাধান করবো ইনশাআল্লাহ। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নিত করেছেন। ইউএনডিপির ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় করণ করেছেন এবং জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনার জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, আমি ২৯বছর প্রাথমিক শিক্ষকদের নেতৃত্ব দিয়েছি, আমার নেতৃত্বে ২৬১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে। আমি জানি কি ভাবে আলোচনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী থেকে দাবী আদায় করা যায়। আমরা সমর্থন করি না প্রধান মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনষন করে দাবী আদায় করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি সর্বজনাব গিয়াস উদ্দিন, যুগ্ন মহাসচিব মোতাহারুল ইসলাম, যুগ্ন মহাসচিব কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনাজ পারভীন, মহিলা সম্পাদক মনজুয়ারা বেগম, সহ-অর্থ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন, সহ প্রচার সম্পাদক মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, দৈনিক জরুরী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ হুমায়ূন কবীর পন্ডিত ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY