বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-নেপাল

0
9

দ্বিপাক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও নেপাল।

৩০ আগস্ট, বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর তাহাচেল মার্গের হোটেল সোয়ালটি ক্রাউন প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে একমত হয় দুটি পক্ষ।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছেন।

ইহসানুল বলেন, ‘উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেছেন।’

শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে ইহসানুল বলেন, ‘বাংলাদেশ নেপালের সাথে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চল বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য নির্মূল করা। আমরা শুধু নিজেদের উন্নয়ন চাই না, আমরা প্রতিবেশীদের উন্নয়নও চাই।’

বৈঠকে শেখ হাসিনা নেপালকে বাণিজ্য ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দেন।

আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ তার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা নেপালের সাথে বিনিময় করতে পারে।’

বৈঠকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রতি নেপালিদের সমর্থনের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সময় নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিও দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য সুযোগ অন্বেষণের প্রতি জোর দেন।

কেপি শর্মা বাংলাদেশে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানির বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং জানান যে, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

কেপি শর্মার আমন্ত্রণে চতুর্থ বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে শেখ হাসিনা নেপাল সফর করায় ওলি আনন্দ প্রকাশ করেন।

নেপালের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গায়ওয়ালি ও পররাষ্ট্র সচিব শঙ্কর দাস বৈরাগিসহ অন্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ও নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস।

পরে একই স্থানে ভুটানের প্রধান উপদেষ্টা (অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান) দাশু তিশিরিং ওয়াংচুক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠককালে ভুটানের প্রধান উপদেষ্টা তার দেশের আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন।

দাশু তিশিরিং ওয়াংচুক বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আমাদের পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং নতুন সরকার ৩১ অক্টোবর নাগাদ শপথ নেবে।’

দুই নেতা তাদের দেশের মধ্যে বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ বন্ধন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ এবং আগামী দিনগুলোতে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরে শেখ হাসিনাসহ বিমসটেকের অন্য নেতারা রাজধানীতে রাষ্ট্রপতির প্রাসাদে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা নেপালের রাষ্ট্রপতি আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেন।

ref- priyo.com

LEAVE A REPLY