রাজধানীর যানজট নিরসনে মানসম্পন্ন বাস নামানোর পরামর্শ

0
14

রাজধানীতে যানজট নিরসনে আরামদায়ক, আধুনিক, যাত্রীবান্ধব ও মানসম্পন্ন বাস নামাতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে বিদ্যমান আট হাজার গণপরিবহনের (বাস) ফিটনেস নেই। ২০০৩ সালে যেভাবে টু-স্ট্রোক অটোরিকশার পরিবর্তে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ব্যবহার শুরু হয়েছিল। তেমনি আধুনিক ও মানসম্পন্ন বাসের মাধ্যমে পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।

রাজধানীর যানজট বা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইউএনবির সঙ্গে আলোচনাকালে নগরায়ন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. সারওয়ার জাহান, বুয়েট অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসাইন এবং স্থপতি ইকবাল হাবিব এসব মতামত দেন।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীতে চলাচলকারী বাসগুলোকে গ্রহণযোগ্য মানের হতে হবে। রাস্তায় চলাচলকারী বিদ্যমান বাসগুলো ন্যূনতম মানের চেয়েও খারাপ। জনগণকে প্রাইভেট যানবাহনের ওপর নির্ভরতা দূর করতে আরামদায়ক এবং যাত্রীবান্ধব গুণগতমানসম্পন্ন বাস নামাতে হবে।’

ঢাকাকে জনবহুল সিটি উল্লেখ করে নগর বিশেষজ্ঞ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ডাবল ডেকার বাসগুলো এ সমস্যার সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে এবং বিদ্যমান সড়কের সর্বোত্তম ব্যবহার হবে।’

অধ্যাপক নজরুল আরও বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব সরকারকে পাঁচ-ছয়টি কোম্পানির মাধ্যমে বিদ্যমান রুটগুলোতে বাস নামাতে হবে। যানবাহনগুলো অল্পসংখ্যক কোম্পানির কাছে থাকলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।’

সরকারের একটি জরিপ তুলে ধরে স্থপতি ইকবাল হাবীব বলেন, ‘২০১৭ সালে রাজধানীতে ছয় হাজার ৯০০টি বাস চলাচল করছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ বাসই রাজধানীতে চলাচলের উপযোগী নয়। মাত্র দুই হাজার ৬০০ বাস চলাচল উপযোগী। অবশিষ্ট চার হাজেরও বেশি বাস চলাচলের অনুপযোগী। এটা সরকারের জরিপ, আমার মতামত নয়।’

ইকবাল হাবীব আরও বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক প্রথম ধাপে রাজধানীতে তিন হাজার আধুনিক ও মানসম্পন্ন বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর সেই উদ্যোগও থেমে গেছে।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক হাবিব বলেন, ‘বিদ্যমান বাসগুলোর পরিবর্তে আধুনিক বাস নামানোর জন্য বাস কোম্পানি বা মালিকদের সরকারের পক্ষ থেকে ট্যাক্স মওকুফ এবং ঋণ সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।’

সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজধানীতে আধুনিক বাস চলাচল সম্ভব উল্লেখ করে হাবিব বলেন, ‘আমরা অতীতেও এটা করতে পেরেছি। ২০০৩ সালে সমস্ত টু-স্ট্রোক অটোরিকশার পরিবর্তে রাজধানীতে একযোগে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নামানো হয়েছিল।’

রাজধানীর বাসগুলো শিশু থেকে বয়স্ক—সব ধরনের মানুষের উপযোগী হবে উল্লেখ করে হাবিব বলেন, ‘বর্তমানে রাজধানীতে চলাচলকারী বাসগুলো সব ধরনের যাত্রীবান্ধব নয়। রাস্তার ওপর চাপ কমিয়ে নিরাপদ এবং সহজে যাতায়াতের জন্য পানিপথ ও মেট্রোরেলের ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।’

মোয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, ‘রাজধানীতে চলাচলকারী বাসগুলোই শুধু আনফিট নয়, এসব বাস চালকরাও অযোগ্য। রাজধানীর প্রত্যেক নাগরিকের গুণগতমানের বাসে চলাচলের অধিকার রয়েছে।’

দুই শতাধিক বাস কোম্পানির বাস রাজধানীতে চলাচল করাকে অদ্ভূত আখ্যায়িত করে মোয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, ‘যাত্রীদের জন্য কেন এসি বাস নেই? রাজধানীতে লেগুনার মতো যানবহনগুলো কেন চলে?’

বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসাইন আরও বলেন, ‘রাজধানীতে গুণগত মানের বাসসেবা পাওয়ার জন্য মানসম্পন্ন বাস, দক্ষ ও সুশৃঙ্খল চালক, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং মালিক বা কোম্পানির জন্য বাসরুট ও বাসের টার্মিনাল নির্দিষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন।’

ড. সরওয়ার জাহান বলেন, ‘একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে রাজধানীতে চলাচলকারী বিদ্যমান বাসগুলোকে আর চলাচল করতে দেওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ref- priyo.com

LEAVE A REPLY