গডফাদাররা ধরা-ছোয়ার বাইরে মুলাদীর উত্তরাঞ্চলে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা-জাল টাকা

0
124

মুলাদী প্রতিনিধি ॥
মুলাদী উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তরাঞ্চলে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, মদ-গাজাসহ বিভিন্ন মাদক ও জাল টাকার নোট। মাদক সহজলভ্য হওয়ায় উঠতি বয়সী কিশোর-যুবকরা অল্প সময়ের মধ্যেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীরা ধরা পড়লেও গডফাদাররা ধরা-ছোয়ার বাইরে থাকায় উপজেলার সফিপুর, বাটামারা এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। মাদক সহজলভ্য হওয়ায় এসব এলাকার অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন এবং মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রনের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এছাড়া ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে জাল নোট ব্যবসায়ীরা উপজেলায় সক্রিয় হওয়ায় বিভিন্ন বন্দরের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে জাল নোট আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
জানাগেছে মুলাদী উপজেলার উত্তর সীমান্তবর্তী বাটামারা ও সফিপুর ইউনিয়নে পাশ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট এবং মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ থাকায় সহজেই গাড়ী যোগে ঢাকা থেকে আসা-যাওয়া করা যায়। মাদক ব্যবসায়ীরা সড়ক পথে মোটরসাইকেল কিংবা মাইক্রোবাসে করে ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ-গাজা পরিবহন করে থাকে। এছাড়া ঢাকা থেকে মীরগঞ্জগামী লঞ্চ গভীর রাতে সফিপুর ও বাটামারা ইউনিয়নের লঞ্চঘাটে যাত্রী উঠানামা করায় ব্যবসায়ীরা নিরাপদ রুট হিসেবে এসব লঞ্চ ব্যবহার করে থাকে। গত ৭ আগষ্ট ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে মুলাদী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সীমান্তবর্তী ৩৬ ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে ঢাকা ছেড়ে আসা মীরগঞ্জগামী হাসান-হোসেন লঞ্চ থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ আসমা ও রাহাত নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। রাহাত আগেও ১৫০পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছিলো। ১৫/২০দিন আগে সে জামিনে ছাড়া পেয়ে পুনঃরায় ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে। এর আগে ৫ আগস্ট দুপুরে মৃধারহাট খেয়াঘাট থেকে সাব্বির সিকদার নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ২০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেন মুলাদী থানার ওসি জিয়াউল আহসান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায় মাদকের গডফাদারদের মধ্যে আলাউদ্দীন সিকদারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে কিন্তু মূলহোতাকে তারা এখনও ধরতে পারেনি। গত ৩ আগস্ট সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের জলিল রাড়ি ওরফে জলিল হাফেজের পুত্র মাদক ও জাল নোটের ব্যবসায়ী আল আমিন রাঢ়িকে বাড্ডা থানা পুলিশ বিপুল পরিমাণ জালনোটসহ গ্রেফতার করে। এলাকা ঘুরে জানা গেছে সফিপুর ইউনিয়নের ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের মালেক আকনের পুত্র আওলাদ আকন, জাকির আকন, একই গ্রামের আঃ রব আকনের পুত্র হাবিব আকন, বালিয়াতলী গ্রামের মৃত মন্নান ওরফে মনা সিকদারের পুত্র রিপন সিকদার, স্বপন সিকদার, নূরু মাঝির পুত্র সোহাগ মাঝি, উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের দুলাল রাঢ়ির পুত্র মিন্টু রাড়ি, হারিস রাড়ি, ফজলে হাওলাদারের পুত্র চানমিয়া হাওলাদার, শাহ আলম মাঝির পুত্র শওকত মাঝি, আলমলীর হাওলাদারের পুত্র মিলন হাওলাদার, আলী হোসেন প্যাদার পুত্র মিলন প্যাদা, বাটামারা ইউনিয়নের তয়কা গ্রামের মালেক সরদারের পুত্র পারভেজ, তাইজুল আকন, সোহেল মৃধা, নাজমুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু কে বা কাহারা তাদের পরিচালনা করছে তা কেউ বলতে পারছে না। নতুন সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা না হলে উত্তরাঞ্চলসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদক ছড়িয়ে পরবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে এসব মাদক ও জাল নোট ব্যবসায়ীরা দ্বিগুণ সক্রিয় হয়ে পুরো এলাকায় মাদক ও জাল নোট ছড়িয়ে দিতে পারে। এব্যাপারে সফিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু মুছা হিমু মুন্সী জানান মাদক ও জাল নোট প্রতিরোধ করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাতœক সহযোগিতা করা হবে। মুলাদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফয়েজ আহমেদ জানান মাদক ব্যবসায়ী যতই শক্তিশালী হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে এবং জাল টাকা চিহ্নিত করতে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে জাল নোট সনাক্তকরণ যন্ত্র বসানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY