বুড়িগঙ্গায় নৌকা বাইচে নিহত শাবানার দায়ভার নেবে কে? সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব-জ্ঞানহীনতা রয়েছে, দাবী নিহত পরিবারের

0
562

নিজস্ব সংবাদদাতা:
বুড়িগঙ্গায় নৌকা বাইচে নিহত শাবানার দায়ভার নেবে কে? সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব-জ্ঞানহীনতা রয়েছে, দাবী নিহত পরিবারের ।বিগত ১১/১০/১৯ ইং তারিখ স্হানীয় কাউন্সিলর মোঃ সাইদুল মাদবর ৫৭ নং ওয়ার্ড কামরাঙ্গবাীরচর ঢাকা এর উদ্যোগে বাঙ্গালীর ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে বিশাল নৌকা বাইচের আয়োজন করেন।যদিও ব্যস্ততম বুড়িগঙ্গা নদী নৌকা বাইচের জন্য উপযুক্ত নয় বলে মনে করেন স্থানীয়রা। বিকাল ৩ঃ০০ ঘটিকা হইতে ৫ঃ০০ঘটিকা পর্যন্ত চলে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। সাধারন জনগন, রাজনীতিবিদ,সাংবাদিক, মানবাধিকাসহ নানা পেশার লোকজন নদীতে থেকে নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে ভোলগেড, লন্চ, ট্রলার, ছোট নৌকা, জাহাজসহ অন্যান্য নৌযানের মধ্যে দিয়ে বাইচের নৌকা এলোমেলো ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রতিযোগিতা করেছে। নৌকা বাইচ উপভোগ করতে আসা শত শত জনগনের নিকট ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।

2

সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং ভাগ্যের নিমর্ম পরিহাসে শাবানা (২২), বাড়ী- জাজিরা,শরীয়তপুর।সম্প্রতী বিয়ে হয় একেই এলাকার স্বপন নামে একজনের যুবকের সাথে সহিত।বিয়ের বয়স মাএ ১৪ মাস। সুখে-শান্তিতে চলছিল শাবানা-স্বপনের সংসার। স্বামী স্বপন কামরাঙ্গীরচরে একটি পলিথিনের কারখানায় চাকুরী করেন।১১ তরিখ নৌকা বাইচের সময় শাবানার ভাই, সেলিম তার বোন কে একটি মোবাইল ফোন দেওয়ার জন্য নুরজাহান স্কুলের ঘাটে- কেরাণীগন্জ থেকে ডেকে নিয়ে আসে।ঘটনার দিন বিকাল ৫.০০ঘটিকার সময় স্বামী-স্ত্রী উভয়েই নৌকা দিয়ে পার হয়ে মোবাইল নেওয়ার জন্য আসেন ।তার ভাই এর সাথে দেখা করে কয়েক মিনিট পরেই আবার দুজন নৌকায় উঠেন।

১০-১২ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি সময় আনুমানিক ৫.৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৬.০০ ঘটিকায় ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ঘটে তাদের জীবনে। নৌকা ঘাটে যেতে না যেতেই ভোলগেড নৌকাটিকে ধাক্কা দিয়ে ছিটকে নদীতে ফেলে দেয় অনিয়ন্ত্রিত বাইচের একটি নৌকা।সন্ধ্যা প্রায় ৭.০০ঘটিকা পর্যন্ত নৌকা বাইচের আমেজ ছিল নদীতে।উতসূক জনতা ও সংবাদ কর্মীরাও নদীতে ছিল ৭.০০ঘটিকা পর্যন্ত।নদী ফ্রি ছিলনা এক দিকে নৌকা, ভোলগেড,ট্র লার,জাহাজ, লঞ্চ এলোপাথাড়ি চলায় এই দূর্ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয়রা।শাবানা সাঁতার না জানায় ভোলগেডের প্যানে আটক পরে তার মাথা কেটে যায়।ডান পা আলাদা হয়ে যায়।নৌকার মাঝি শহীদুল দূর্ঘটনার সাথে সাথেই পালিয়েছে। পরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেও শাবানার লাশ খুজে পাওয়া যায়নি।ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হলে তারা রাতের কারনে নদীতে নামেনি।পরের দিন সকালে নদীতে খোঁজা খুজি করে ব্যর্থ হন ডুবুরিরা। পরদিন সকাল ১০.৩০ ঘটিকার সময় শাবানার লাশ কেরাণীগন্জের দিকে রং কারখানার সামনে ঘাগাইল ঘাটের একটু পাশেই লাশ ভেসে উঠলে তারা নিজেরাই লাশ কামরাঙ্গীরচর নুরজাহান স্কুল গেটে নিয়ে এসে কামরাঙ্গীরচর থানায় যোগাযোগ করেন । থানা কর্তৃপক্ষ্য বলেন নদীটি কেরাণীগন্জ থানার আওতাধীন তাই আপনারা ঐ দিকের পুলিশের সহিত যোগাযোগ করেন।পরে দু-ঘন্টা পর কেরাণীগন্জ থানার পুলিশ এসে লাশ ময়না তদন্তের কথা বলেন।কিন্তু নিহত শাবানার অভিভাবক ময়না তদন্তে রাজী না হওয়ায় তারা পুলিশকে লিখিত দিয়ে শাবানার লাশ গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে বাবার কবরের পাশেই শাবানাকে সমাহিত করেন।

শাবানার পরিবার ও জনগনের দাবী কে নিবে এই অকালে শাবানার মৃত্যের দায়ভার? থানা-পুলিশ, নৌপুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, জনপ্রতিনিধিরা না নৌকা বাইচ আয়োজকরা। অকালে শাবানাকে হারিয়ে পরিবারের শোকের ছায়া বইছে। পরিবারের দাবী অনুপযোগী জায়গায় অনিয়ন্ত্রিত নৌকা বাইচের কারনে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহত শাবানার ভাই মো: সেলিম হোসেন অস্রসজল কন্ঠে প্রতিনিধিকে বলেন- আমি আমার বোনকে হারিয়েছি কর্তৃপক্ষের উদাশীনতা ও দায়িত্ব অবহেলার কারনে আর যেন কোন মায়ের বুক খালি না হয়, কেই যেন বোন হারা না হন। অনিয়ন্ত্রিত নৌকা বাইচ না হলে আমার বোন নিহত হতনা।আমার বোনের মৃত্যুর দায়ভার কে নেবে? এই ব্যস্ত নদীতে কি করে কর্তৃপক্ষ নৌকা বাইচের অনুমোদন দেন? আমি দুর্ঘটনার সাথে জড়িত উদাসহীন কর্তৃপক্ষকে আইনের আওতায় এনে সুবিচারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানান।

72772707_520025862170516_9209794266547617792_n
নিহত শাবানা তার স্বামীকে নিয়ে খাগাইল, মোহাম্মদনগর আঃ হামেদের বাড়ীতে ভাড়া থাকতেন গত মাসের ২৬/৯/১৯ ইং তারিখে তারা এই বাসায় উঠেন। দুর্ঘটনার পরে ঘটে রহস্যজনক ঘটনা। কোন নৌকার মাঝি ঘটনার বিষয়ে মুখ খোলেনি।এলাকার অনেক লোক নিহত শাবানার বাসাটি পর্যন্ত দেখিয়ে দেয়নি।অনেক খোঁজাখোজির পর সংবাদ কর্মীরা নিহত শাবানার তথ্য সংগ্রহ করেছেন।এই বিষয়ে কেরাণীগন্জ থানার ওসি বলেন- লাশ ময়না তদন্ত হয়নি তারা লিখিত দিয়ে লাশ নিয়ে যায়।ঘটনা কতটার সময় জানতে চাইলে তিনি বলেন রাত ৮.০০ঘটিকার সময়।সংবাদ কর্মীরা বলেন ঘটনা ৫.৩০ ঘটিকার সময় আর নৌকাবাইচে নদী ফ্রি না থাকায় এই দূর্ঘটনা ঘটেছে বলছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।তখন তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যায় এবং বলেন নৌকা বাইচের সাথে এই ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই।

নিহতের পরিবারের দাবী ভিডিও ফুটেজ দেখলে পরিস্কারভাবে জানাযাবে প্রকৃত ঘটনা- কীভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অসংখ্য নৌযানের মধ্যে দিয়ে এলাপাথারীভাবে প্রতিযোগিতা চলছিল।

নিহত শাবানার পরিবারের কে নিবে তাদের অকালে স্বজন হারানোর দায়ভার? কাউন্সিলর সাইদুল মাদবর, নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, প্রশাসন সহ নৌ-মন্রনালয়?

73208713_2479631148947626_994727203281305600_n

একাধিক নৌকার মাঝি জানান, সাইদুল মাদবর ১২টি নৌকা এক সাথে বাইচ দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু সে মাত্র ছয়টি নৌকা দিয়ে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। তার বিষয়ে খোজ খবর নিলে দুর্ঘটনার বিষয়ে জানা যেতে পারে।

LEAVE A REPLY