শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় : “স্বাধীনতার স্মৃতি স্তম্ভ”

0
101

উপরে প্রদর্শিত ছবিতে আমার সাথে যারা তারা হচ্ছেন বর্তমান সময়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য কর্মচারী বৃন্দ
সবাইকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি প্রতিষ্ঠাতার পরিবারের পক্ষ থেকে আমি মজুমদার মোস্তাফিজ মনির ব্যুরো চীফ অব বরিশাল দৈনিক জরুরী সংবাদ।
বিশেষ করে যে প্লাটফর্মে দাড়িয়ে ছবি তুলেছি তার নাম দেওয়া হয়েছে “স্বাধীনতার স্মৃতি স্তম্ভ”। যারা নাম করণ করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। মনের অব্যাক্ত যন্ত্রনার কিছু কথা না বললেই নয়। এইতো সেদিন গিয়েছিলাম আমার জন্মদাতা মরহুম ফিরোজ আলম মজুমদার প্রতিষ্ঠিত শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত-১৯৭১। সবার সাথে ছবি তুললাম, স্মৃতির সম্ভারে ধুলোয় আচ্ছাদিত স্মৃতি নিজেকে বেদনার্ত করলো। ১৯৭১ এর একটি ইতিহাস হাজারো ঐশ্বয্যের পরম অনুভূতির চরম চাওয়া এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ইতিহাসকে স্মরণ রাখার জন্য ভাস্কর হিসাবে এই প্রতিষ্ঠান। আমার জন্মদাতা পাদ্রিশিবপুর গ্রামের তথা বাকেরগঞ্জ বাসীর উদ্দেশ্য উৎস্বর্গ করেছিলো। নাম দিয়েছিলো শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পিতামহের সামান্য সম্পত্তি যতটুকু ঐ সিমানায় ছিলো ততটুকুই দান করেছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের পার্শ্বে যাদের সম্পত্তি তারাও আমাদের প্রতিবেশী এবং নিকটআত্বীয়। তাদের বিবেক আজও সারা দেয়নি, আগামী প্রজন্মের জন্য তাদেরও কিছু করা উচিৎ। এই বিভেকবোধ তাদের জাগ্রত হোক, ¯্রষ্ঠা তাদের সহায় হোক, এ কামনা এবং ভাষনা নিয়ে হয়তো আমিও চলে যাবো বাবার মতো পরপারে। রক্তের ¯্রােতে ভেষে আসা লাল-সবুজ শোভিত পতাকায় আবৃত ৫৮হাজার বর্গ কিলো: মানচিত্রে আবদ্ধ আমাদের ২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন সৌধ শহীদ মিনার। আমার বাবা ভাষা আন্দোলনের শ্লোগানে রাজপথের শরীক ছিলেন। তিনি দেখেছেন রফিক, শফিক, বরকত, জব্বারের আত্মহুতি। তাই প্রতিষ্ঠানের ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি অনুষ্ঠানে আমার জন্মদাতাকে আমি কাঁদতে দেখেছি। সব ক্রন্দন সব হাসির মেলায় মেলেছে এ মেলা। আমার জন্মদাতার এই দান উক্ত প্রতিষ্ঠান। বহুকাল প্রবাসে থাকার কারণে বাবার প্রতিষ্ঠানে সময় দিতে পারিনি। এই অপরাগতার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তবে আমার জন্মদাতার স্বপ্নের আঙ্গিনাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমার ¯েœহস্পদ সবাইকে আমি প্রতিষ্ঠানের পথে শরীক করেছি।
জীবদ্মশায় দক্ষিণ বাংলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসাবে প্রেস ক্লাবে সংবর্ধনা দিয়েছিলো তার স্বনামধন্য শিক্ষার্থীরা। আমি তাদের কাছে আজও কৃতজ্ঞ। দক্ষিণ বাংলায় তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান অহরহ। শিক্ষার আলো ছড়াতে কারপন্ন করেনি কোনদিন। যেমন করে মহেশপুর গোহাইলবাড়ী, ঝাটিবুনিয়া, নিয়ামুতি পরিশেষে পাদ্রিশিবপুর নিজ গ্রামে শেষ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলা কালিন সময়ে মুক্তিযুদ্ধে পাদ্রিশিবপুর ইউনিয়নের সংগ্রাম পরিষদের তৎকালীণ সভাপতি ছিলেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আজও মেলেনি তার মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃি তবা সনদ। যাহা যাচাই-বাছাই হয়ে জামুকায় ফাইলবন্দী হয়ে আছে। তবে আশ্বাস পেয়েছি মানবতার নেত্রী স্বাধীনতার স্বপক্ষের ধ্রুবতাঁরা মহান নেত্রীর কাছ হতে। এবার প্রকৃত সনদ বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই সনদ পাবেন। আল্লাহপাক সবার মনোবাসনা পূরণ করুক, বিভেকবোধ জাগ্রত হোক আমাদের প্রতিবাসীদের ঐ প্রতিষ্ঠান এককের নয় সবার। যারা আজ শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নতির সুভাকাঙ্খি আশা করি সদয় হবেন সবাই। বিবেচনা করে দেখবেন একটু সহনুভূতি দিয়ে সুন্দর এবং সু-প্রতিষ্ঠিত করি প্রতিষ্ঠান আগামী প্রজন্মের জন্য। মরিয়াও যেন আমরা অমর হয়ে থাকি। বাংলার পরিক্রমায়।

LEAVE A REPLY