এক বৃষ্টিভেজা যাত্রা, ৫ আগস্ট ২০২৫
৫ আগস্ট ২০২৫-এর সরকারি ছুটির দিনে হঠাৎ সিদ্ধান্তে বেরিয়ে পড়ি কমলাপুর স্টেশন থেকে নারায়ণগঞ্জ, সেখান থেকে লঞ্চে মুন্সিগঞ্জ এবং শেষে সদরঘাট হয়ে বাসায় ফেরা। এই এক দিনের ভ্রমণে ছিল ট্রেনযাত্রা, নদীপথ, ঐতিহাসিক কেল্লা দর্শনের চেষ্টা এবং বৃষ্টির ভেজা আনন্দ।
দিনটা ছিল ৫ আগস্ট ২০২৫। ক্যালেন্ডারে লাল দাগ, সরকারি ছুটির দিন।
সকালের শুরুটা হয়েছিল ঘরে বসে অলসতায়—টিভিতে মুভি, হাতে ফোন, আর জানালার বাইরে মেঘলা আকাশ। কিন্তু হঠাৎ মনে হলো, আজ ঘরে বসে থাকা যাবে না। কোথাও বের হতে হবে, ট্রেন ধরতে হবে, নদীর বাতাস নিতে হবে।
ফ্রেশ হয়ে ব্যাগে শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। পাঠাও ডেকে কমলাপুর স্টেশনের পথে রওনা হলাম। তখন সকাল ১১টার বেশি।
স্টেশনে গিয়ে দেখি গাজীপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, মোহনগঞ্জ, ময়মনসিংহের ট্রেন আছে, কিন্তু দুপুর ২টার আগে ছাড়বে না। গাজীপুরে আগেও গিয়েছি, আর ফিরতেও অনেক রাত হয়ে যাবে ভেবে সেটি বাদ দিলাম।
প্রথমে নাস্তা সারলাম—গরম পরোটা, ডিমভাজি আর এক কাপ চা। তারপর স্টেশনে ফিরে লক্ষ্য করলাম নারায়ণগঞ্জগামী ট্রেন ছাড়বে ১২টা ৩০ মিনিটে। টিকিট মাত্র ২০ টাকা। আর দেরি না করে টিকিট কেটে উঠে পড়লাম।
ট্রেন ধীরে ধীরে এগোতে লাগল, জানালার বাইরে শহরের দৃশ্য—পুরনো গুদামঘর, ছোট দোকানপাট, রাস্তার ভিড়, আর দূরে জমে থাকা কালো মেঘ। প্রায় এক ঘণ্টায় পৌঁছে গেলাম নারায়ণগঞ্জ স্টেশনে।
সেখান থেকে লঞ্চ ঘাটে গেলাম। ঘাটে দুটি গন্তব্য—চাঁদপুর আর মুন্সিগঞ্জ। চাঁদপুরে গেলে ফিরতে হবে পরের দিন সকালে, তাই সেটি বাদ দিয়ে মুন্সিগঞ্জের টিকিট নিলাম। লঞ্চ ভাড়া ৩৫ টাকা, প্রতি ৪০ মিনিট পর পর লঞ্চ ছাড়ে।
নদীর বুক চিরে লঞ্চ এগিয়ে চলল। চারপাশে পানি আর আকাশ, মাঝেমাঝে ছোট নৌকা, কেউ মাছ ধরছে, কেউ যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে অন্যপারে। প্রায় এক ঘণ্টায় মুন্সিগঞ্জে পৌঁছালাম।
গুগল ম্যাপে দেখে কাছাকাছি কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থান পেলাম। এর মধ্যে ইদ্রাকপুর কেল্লা সবার থেকে বেশি জনপ্রিয়। সেখানে গেলাম, কিন্তু সরকারি ছুটির কারণে ভেতরে ঢোকা সম্ভব হলো না। বাইরে থেকে শুধু লাল ইটের দেয়াল আর গেট দেখা গেল।
তারপর গেলাম ডিসি পার্কের সামনে, সেটাও বন্ধ। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে বৃষ্টি উপভোগ করলাম। বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ভিজে যাচ্ছে, দোকানের সামনে পানি জমে আছে, মানুষজন ছুটে যাচ্ছে আশ্রয়ের জন্য।
ফিরতি পথে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে দুপুরের খাবার খেলাম—ভাত, ইলিশ ভাজা আর ডাল। তারপর মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে ফিরে সদরঘাটগামী লঞ্চে উঠে পড়লাম। এই পথে ভাড়া ৭০ টাকা, সময় লাগে প্রায় দেড় ঘণ্টা।
বিকেলের নদী তখন মেঘলা, বাতাস ঠান্ডা, দূরের আলো পানিতে প্রতিফলিত হচ্ছিল। সন্ধ্যার পর সদরঘাটে নেমে বাস ধরে বাসায় ফিরলাম।
রাত হয়ে গেছে, কিন্তু মনটা ছিল পরিপূর্ণ। মনে হচ্ছিল, দিনটি যদি ঘরে কাটিয়ে দিতাম, তাহলে এই অভিজ্ঞতাগুলো কখনও পাওয়া হতো না।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0