বিদেশি ক্রিকেটারদের এনসিএলে আনতে চায় বিসিবি

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) ফিরছে বিদেশি খেলোয়াড়রা। বিসিবি'র নতুন পরিকল্পনায় এনসিএল, এনসিএল টি-টোয়েন্টি ও বিসিএল-এর সময়সূচি ঢেলে সাজানো হয়েছে, যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার তৈরি এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধি।

বিদেশি ক্রিকেটারদের এনসিএলে আনতে চায় বিসিবি
Bangladesh Cricket Board

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই পরিকল্পনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো দেশের প্রধান প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট, ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) বিদেশি ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এনসিএলের প্রতিটি দলে একজন করে বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর নিয়ম ফিরিয়ে আনার কথা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বোর্ড।

বিসিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, এনসিএলে বিদেশি খেলোয়াড় ফেরানোর প্রস্তাবটি বর্তমানে বোর্ডের অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এনসিএলের আসরে প্রতিটি বিভাগীয় দলের হয়ে একজন করে বিদেশি ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পাবেন। বিসিবির মতে, অতীতে এই নিয়ম স্থানীয় ক্রিকেটারদের মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল। বিশেষ করে, বর্তমানে এনসিএলে ঘাসযুক্ত (গ্রাসি) উইকেট তৈরির যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, তার সঙ্গে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একজন দক্ষ বিদেশি পেসারের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেলে স্থানীয় ব্যাটারদের স্কিল এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতি আরও উন্নত হবে।

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বিদেশি ক্রিকেটারের প্রাপ্যতা। এনসিএল চলাকালীন সময়ে ভারতে রঞ্জি ট্রফি এবং পাকিস্তানে কায়েদ-ই-আজম ট্রফির মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। ফলে, এই দুই দেশের মানসম্মত খেলোয়াড়দের পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে বিসিবি বিকল্প হিসেবে অন্যান্য দেশের ক্রিকেটারদের দিকে নজর দিচ্ছে।

এদিকে, বিসিবির প্রোগ্রাম প্রধান মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানিয়েছেন, এবারের ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুম শুরু হবে এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিয়ে, যা আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, “গত বছর সময়ের স্বল্পতার কারণে একটি ভেন্যুতে খেলা আয়োজন করতে হয়েছিল। তবে এবার তিনটি ভিন্ন ভেন্যুতে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে।”

ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচিতে আরও রয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ৫০ ওভারের সংস্করণ, যা ডিসেম্বরের ৪ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে বিসিএলের চার দিনের আসর। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পর, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে একটি বিদেশি দলকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রমতে, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আফগানিস্তানের ‘এ’ দল অথবা তাদের হাই পারফরম্যান্স ইউনিটকে (এইচপি) ভাবা হচ্ছে।

বিসিবির এই সকল উদ্যোগের মূল লক্ষ্য একটাই—দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার তৈরি করা। এনসিএল ও বিসিএলকে নতুন রূপে সাজিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0