লিভারপুলের হয়ে ইতিহাস গড়া ১৬ বছর বয়সী কিশোর

১৬ বছর বয়সী রিও এনগুমোয়া লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে অভিষেকের সময় গোল করে ইতিহাস গড়েছেন। নিউক্যাসেলের বিপক্ষে ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে জিতিয়েছেন এবং লিভারপুলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। তিনি চেলসির একাডেমি থেকে লিভারপুলে এসে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় তারকা হিসেবে পরিচিত।

লিভারপুলের হয়ে ইতিহাস গড়া ১৬ বছর বয়সী কিশোর
রিও এনগুমোয়া

নিউক্যাসেলের বিরুদ্ধে লিভারপুলের ম্যাচে যোগ করা সময়ের শেষ কয়েক মিনিটে কোডি গাকপোর পরিবর্তে মাঠে নামা রিও এনগুমোয়া প্রায় নিশ্চিতভাবেই ভাবছিলেন যে তাঁর অভিষেক খুব সাধারণভাবে শেষ হবে। তবে ১৬ বছর বয়সী এই উইঙ্গারের জন্য ম্যাচের শেষ মুহূর্তের সময়টাই একেবারে ভাগ্যবদলকারী প্রমাণিত হলো।

মাঠে নামার মাত্র চার মিনিট পর মোহাম্মদ সালাহর ঠিকঠাক পাস পেয়ে এনগুমোয়া দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়িয়ে লিভারপুলকে ৩–২ গোলে জয় এনে দেন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি শুধু ম্যাচ জিতিয়েছেন তা নয়, ইতিহাসও গড়েছেন। ১৬ বছর ৩৬১ দিনের এই কিশোর লিভারপুলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন এবং প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার তালিকায়ও উঠে এসেছেন। এছাড়াও তিনি ওয়েইন রুনির পরে ১৬ বছর বয়সে ম্যাচ জেতানো গোল করা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ডে নাম লেখিয়েছেন।

এনগুমোয়ার প্রতিভা হঠাৎ আবির্ভূত নয়। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি চেলসির একাডেমিতে যোগ দিয়ে ফুটবলার হিসেবে গড়ে ওঠা শুরু করেছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চেলসির কোভহ্যাম ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ছিলেন এবং তখনই তাঁর বিশেষ প্রতিভা সবাই দেখেছিলেন। সাবেক অধিনায়ক জন টেরি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এনগুমোয়া একজন বিশ্বমানের ফুটবলার হয়ে উঠবেন।

চেলসি ছাড়ার সময় এই ক্ষোভ এবং হতাশা ছড়িয়ে পড়েছিল, কারণ লিভারপুলের স্কাউটরা এনগুমোয়ার খেলা দেখতে পেয়েছিল। এরপর গত বছর লিভারপুলে যোগদান করলেও শুরুতে মূল দলে স্থান পাননি। অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলে নিজেকে প্রমাণ করার পর দ্রুত মূল দলের আলোচনায় স্থান করে নেন। ইতিমধ্যেই তিনি লিভারপুলের ইতিহাসে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে সর্বকনিষ্ঠ প্রথম একাদশে নামা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত।

প্রাক্-মৌসুমে এনগুমোয়া তার প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন। পাঁচ ম্যাচে তিন গোল এবং দুটি গোল করান তিনি, যেখানে দুইটি গোল এসেছে একক নৈপুণ্যে। সতীর্থ বেন ডোক এনগুমোয়াকে ‘অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রধান কোচ জুর্গেন স্লট এনগুমোয়াকে ফন ডাইক ও সালাহদের সঙ্গে কাছাকাছি রেখে তৈরি করতে চাইছেন। তাকে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করছেন। তবে মাঠে নামার পর ইতিহাস গড়া এনগুমোয়া প্রমাণ করেছেন যে বিশেষ প্রতিভারা পরিকল্পনার বাইরে দাঁড়িয়েও নতুন ইতিহাস তৈরি করতে সক্ষম।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0