আলোচনা

ডা. জাহেদ উর রহমান

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা Story Photo

(প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)আমরা এমন এক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আছি, যেখানে বিনোদন মাধ্যমও বাজার ও মুনাফার হিসাবের বাইরে নয়। ফলে যে ধরনের কনটেন্টের চাহিদা বেশি, নির্মাতারা স্বাভাবিকভাবেই সেদিকেই ঝুঁকবেন। কিন্তু জেন্ডার-সংবেদনশীল বিনোদন মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করতে গেলে শুধু বাজারকে দায়ী করলে হবে না। আমাদের বুঝতে হবে, দর্শকের চাহিদা কীভাবে তৈরি হয় এবং কেন কিছু নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ বাস্তবতাকে আরও জটিল করেছে। এখন অনেক সময় উসকানিমূলক, সংঘাতপূর্ণ বা বিতর্কিত কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা জেনে কিংবা না জেনে এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। তবে শুধু নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা দিয়ে এ পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব নয়; বরং আমাদের এমন একটি পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করতে হবে, যেখানে দায়িত্বশীল ও জেন্ডার-সংবেদনশীল কনটেন্টও সমানভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে ও গ্রহণযোগ্যতা পায়। এ ক্ষেত্রে শিল্পের স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন। বয়সভিত্তিক সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা যেতে পারে, যেন দর্শক উপযুক্ত কনটেন্ট বেছে নেওয়ার সুযোগ পান।

জেন্ডার-সংবেদনশীল বিনোদন মাধ্যম গড়ে তোলা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমষ্টিগত প্রক্রিয়া। এ জন্য রাষ্ট্র, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নির্মাতা, গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সব পক্ষকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে সংবেদনশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণে নীতিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। বাজারের বাইরে থেকেও ভালো কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

শুধু সমালোচনা করে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, ইতিবাচক উদ্যোগকে শক্তিশালী করাও জরুরি। তাই রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তার মাধ্যমে যাঁরা জেন্ডার-সংবেদনশীল বিনোদন মাধ্যম নিয়ে কাজ করতে চান, তাঁদের উৎসাহিত করতে হবে। কাজটি সহজ নয়। কারণ, অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বৈশ্বিক বাস্তবতা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তারপরও আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।