জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়কে (ওএইচসিএইচআর) জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময়ে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য অনুরোধ করা। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের জন্য এ অনুরোধ করেন।
ওএইচসিএইচআর তদন্তের পর ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদন: বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত বিক্ষোভের সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপব্যবহার’ প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটিতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য
ওএইচসিএইচআরের মতে, আওয়ামী লীগ সরকার, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত সহিংস গোষ্ঠীর সহযোগিতায় যে পরিকল্পিতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, তা বিশ্বাস করার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে। এসবের মধ্যে ছিল ব্যাপক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বেআইনি শক্তি প্রয়োগ, নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটক, নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিন্নমত দমনের কৌশলের অংশ হিসেবে এসব নিপীড়ন উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা এবং কিছু ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে। নাগরিক প্রতিরোধ দমন করা এবং নির্যাতনের ঘটনাগুলো গোপন করার উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট বন্ধ, নজরদারি, গণমাধ্যমকে ভীতি প্রদর্শন এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বাধা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ১ হাজার ৪০০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ১১ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের সমর্থক, পুলিশ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর প্রতিশোধমূলক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।




