প্রক্রিয়াজাত মৎস্যপণ্য নিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের সাথে সরকারি দপ্তরের মতবিনিময়

গোপালগঞ্জে ক্ষুদ্র ও তরুণ মৎস্য উদ্যোক্তাদের নিয়ে প্রক্রিয়াজাত মৎস্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রক্রিয়াজাত মৎস্যপণ্য নিয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের সাথে সরকারি দপ্তরের মতবিনিময়
সরকারি দপ্তরের মতবিনিময়

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (এমএসএমই) দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করছে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই খাত থেকেই আসে, পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান অপরিসীম। এর ধারাবাহিকতায় তরুণ উদ্যোক্তারা এখন যোগ দিচ্ছেন মৎস্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের নতুন ধারায় ‘রেডি টু কুক’ ও ‘রেডি টু ইট’ পণ্য উৎপাদনে।

তবে মান নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও বিপণনে জ্ঞানের ঘাটতি এই নবীন উদ্যোক্তাদের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের আরএমটিপি প্রকল্পের উদ্যোগে গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে মৎস্য উদ্যোক্তাদের মতবিনিময় সভা।

১৫ অক্টোবর বুধবার আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জনাব বিজন কুমার নন্দী। উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা জনাব এবিএম জাকারিয়া, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ও মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আল হাসান, বিএসটিআই-এর উপপরিচালক জনাব গোবিন্দ কুমার ঘোষ, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জনাব মাহফুজুর রহমান, পদক্ষেপ-আরএমটিপি প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. রফিকুল ইসলাম, এবং কৃষিবিদ মো. লেমন মিয়া, ভিসিএফ, আরএমটিপি সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

রুরাল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট( আরএমটিপি) প্রকল্পের ভ্যালু চেইন ফ্যাসিলিটেটর (ভিসিএফ) কৃষিবিদ মো. লেমন মিয়া বলেন, “ আরএমটিপি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্য চাষিদের ও উদ্যোক্তাদের আধুনিক প্রযুক্তি, পানির প্যারামিটার, পুকুর ব্যাবস্থাপনা, প্রোবায়োটিক এর ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক খাবারের ব্যাপারে আমরা সবসময় উৎসাহ দিয়ে থাকি। নিরাপদ মৎস্য পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে আমরা সাধারন চাষিদের অন্যান্য সফল চাষিদের সাথে সংযোগ করিয়ে দেই যাতে সঠিক ভ্যালু চেইন বজায় থাকে এবং সবাই উপকৃত হয়। ভবিষ্যতে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মাছচাষ ও মূল্য সংযোজিত মৎস্যপণ্য উৎপাদনসহ সকল প্রয়োজনীয় পরামর্শ অব্যাহত থাকবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে”।

সভায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জনাব বিজন কুমার নন্দী বলেন, “নতুন প্রজন্মের কাছে মাছকে আকর্ষণীয় করে তুলতে হলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটকে রেডি টু কুক পণ্য নিয়ে গবেষণা ও উৎপাদনে আরও জোর দিতে হবে।”

গোপালগঞ্জ মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা জনাব এবিএম জাকারিয়া জানান, খুব শীঘ্রই মাছ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একটি নির্দেশিকা তৈরি করা হবে, যা উদ্যোক্তাদের জন্য হবে একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা।

বিএসটিআই-এর উপপরিচালক জনাব গোবিন্দ কুমার ঘোষ বলেন, “পণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের অবশ্যই ল্যাব টেস্ট করিয়ে নিতে হবে। মাছের উৎস, খাদ্য ও পরিচর্যা সম্পর্কেও তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।”

উদ্যোক্তা নাজমিন নাহার মিতা বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে পেরেছি। ভবিষ্যতে আমরা মাননিয়ন্ত্রণ ও সার্টিফিকেশন নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করব।”

এই মতবিনিময় সভা ক্ষুদ্র মৎস্য উদ্যোক্তাদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে—যেখানে সরকারি সহযোগিতা, মাননিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ জ্ঞানের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে দেশের নিরাপদ ও মানসম্মত মৎস্যপণ্যের ভবিষ্যৎ।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0