ভূরুঙ্গামারীতে বেওয়ারিশ ও হিংস্র কুকুরের তাণ্ডব, সোলিড টিম বাংলাদেশের ৭ দফা দাবি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় বেওয়ারিশ ও হিংস্র কুকুরের আক্রমণে স্থানীয় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশুর ওপর কুকুরের হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সেচ্ছাসেবী সংগঠন সোলিড টিম বাংলাদেশ উপজেলা প্রশাসনের কাছে ৭ দফা দাবি পেশ করেছে।
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় বেওয়ারিশ ও হিংস্র কুকুরের অতর্কিত আক্রমণে জনজীবন নষ্টের পর্যায়ে পৌঁছেছে। একাধিক শিশু, বৃদ্ধসহ পথচারী এবং গবাদি পশুর উপর অবাধে হামলা চালানো হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় মানুষ জনজীবনে বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সেচ্ছাসেবী সংগঠন “সোলিড টিম বাংলাদেশ” কর্তৃক উপজেলা প্রশাসনের কাছে একযোগে ৭ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে।
স্থানীয় জনগণ জানায়, গত কয়েক মাস ধরে হিংস্র কুকুরের কামড়ে অনেক শিশু ও বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন গবাদি পশুদের ওপর হামলার ফলে অনেক কৃষক ও পশুপালক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে তৎক্ষণাৎ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা মুখ উঁচিয়ে দাঁড়িয়েছেন।
রবিবার (১০ আগস্ট) সোলিড টিম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবরে দেওয়া লিখিত আবেদনে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে — হিংস্র কুকুর নিয়ন্ত্রণে জরুরি অভিযান পরিচালনা, আক্রান্ত ব্যক্তি ও গবাদি পশুদের জন্য বিনামূল্যে রেবিস (কুকুরকাঁটা জ্বরে টিকা) প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও পশুপালকদের আর্থিক সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য “পশু নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদান কর্মসূচি” বাস্তবায়ন, কুকুরের জন্মনিয়ন্ত্রণ ও টিকাদান বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা, এবং স্কুল ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপ জন মিত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, “প্রাণিসম্পদ ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ আশিকুজ্জামান বলেন, “বর্তমানে কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদানের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে দ্রুত কর্মসূচি শুরু করা হবে।”
অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু সাজ্জাদ জানান, “রেবিস ভ্যাকসিনের চাহিদা জেলায় পাঠানো হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রথমে ক্ষত স্থান সাবান-পানি দিয়ে পরিষ্কার করে দ্রুত টিকা গ্রহণ করার জন্য সচেতন হওয়া জরুরি।”
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে, যাতে এলাকার সাধারণ মানুষ ও পশুপালকরা নিরাপদে তাদের দৈনন্দিন জীবন যাপন করতে পারে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
1